গৌরীপুরে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের সংকট

সারাবাংলা

ওবায়দুর রহমান, গৌরীপুর থেকে:
করোনার মহামারিতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সর্বত্র প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের সংকট সৃষ্টি হয়েছে।  রোববার উপজেলার পৌর শহরের বেশ কিছু ওষুধের দোকানে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের সংকট রয়েছে। এক্ষেত্রে বেক্সিমকো ফার্মাসিটিক্যালস এর ট্যাবলেট নাপা, নাপা-৫০০, নাপা এক্সট্রা, নাপা এক্সটেন্ড, নাপা র‌্যাপিড, নাপা সিরাপ, নাপা ড্রপ, গ্যাসের ট্যাবলেট রেমো-২০, ৪০, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ বাইজুরান ২০, ৪০, স্কয়ার এর এইচ, এইচ প্লাস, এইচ সিরাপ ইত্যাদি ওষুধের চাহিদা দিলেও কোম্পানি দিচ্ছে না।
বর্তমানে ঋতু পরিবর্তনে সাধারণ সর্দি, জ্বর এবং করোনাকালীন এই ওষুধগুলো মানুষের জন্য জরুরী প্রয়োজনীয়। কিন্তু এ জাতীয় ওষুধগুলোর গভীর সংকট দেখা দিয়েছে। ওষুধ কিনতে আসা কালীখলাস্থ ব্যবসায়ী শংকর ঘোষ পিলু জানান, বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরেও নাপা ট্যাবলেট ও সিরাপ কিনতে পারিনি। এ রকম অভিযোগ জানিয়ে আরেকজন ওষুধ ক্রেতা শুভ জানান, বর্তমান সময়ে এ ধরণের ওষুধের সংকট সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে। আমি বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরেও বাচ্চার জন্য নাপা ড্রপ কিনতে পারিনি।
সরেজমিনে সোমা ফার্মেসী, রতন ফার্মেসী, সীমা মেডিকেল হল, বীণা মেডিকেল হল, সেবা ফার্মেসী, বিরদা মেডিকেল হল, জনতা ফার্মেসী, বিসমিল্লাহ মেডিকেল হল, তাকওয়া ফার্মেসী, ফাহিম মেডিকেল হল, সোনালী মেডিকেল হল, মেসার্স হযরত শাহজালাল ফার্মেসীসহ আরও বেশ কয়েকটি দোকানে গিয়ে জানা গেছে ওষুধ সরবরাহের জন্য চাহিদা নিলেও কোম্পানীগুলো ওষুধ সরবরাহ করছে না। সেবা ফার্মেসী সত্ত্বাধিকারী হারুন-অর-রশিদ জানান, আমরা বেক্সিমকো ফার্মসিউটিক্যালস ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের এনালজেসিক গ্রুপের কোন ওষুধ চাহিদার তুলনায় কম পাওয়ায় বিক্রয় করতে পারছি না। ওষুধের চাহিদা নিলেও সরবরাহ করছে না কোম্পানীগুলো। বিসমিল্লাহ মেডিকেল হলের সত্ত্বাধিকারী মোশাররফ হোসেন বলেন, এই গ্রুপের ওষুধ বেশি চলে কিন্তু সংকট থাকায় মানুষের সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
জনতা ফার্মেসীর মালিক মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বর্তমান সময়টাতে জ্বর-সর্দি রোগ বেশি হচ্ছে। এ জন্য নাপা ও এইচ জাতীয় ওষুধের সরবরাহ কম থাকায় মানুষজনের কাছে বিক্রয় করতে পারছি না। সোমা ফার্মেসীর সত্ত্বাধিকারী দেলোয়ার হোসেন বলেন, করোনা ও ঋতু পরিবর্তনের কারণে সারা দেশে জ্বর-সর্দির রোগী বেড়ে যাওয়ায় এনালজেসিক জাতীয় ওষুধের উৎপাদন কম হওয়ায় চাহিদা মোতাবেক সরবরাহ না করায় এই সংকট দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে স্কয়ার এর মেডিকেল প্রমোশন অফিসার মতিউর রহমান জানান, ওষুধ আছে তবে উৎপাদন কম হওয়ায় আগের তুলনায় কম সরবরাহ করতে হচ্ছে। বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মেডিকেল প্রমোশন অফিসার হারুন-অর-রশিদ বলেন, কি কারণে কোম্পানী দিচ্ছে না তা বলতে পারবো না। তবে সামনের সপ্তাহে সরবরাহ করার চেষ্টা চলছে। এ সংকটের বিষয়ে ফারিয়ার সভাপতি মোঃ শহীদুল্লাহ জানান, ওষুধ তৈরির কাঁচামাল বাইরের দেশ থেকে আমদানী করতে হয়। আমদানী কম থাকায় ওষুধ উৎপাদন কম হওয়ায় বাজারে এ সংকট তৈরি হচ্ছে। গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রবিউল ইসলাম বলেন, এ বিষয়টা আমি সঠিকভাবে বলতে পারবো না। এ বিষয়ে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মারুফ বলেন, বিষয়টা আমার জানা নেই। এমন বিষয় হলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে জানতে ময়মনসিংহের ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে কেউ ফোন ধরেনি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *