চট্টগ্রামে পুলিশ-সন্ত্রাসী সখ্যতা

সারাবাংলা

রাজীব রাহুল, চট্টগ্রাম ব্যুরো
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি যেখানে দেখা যাচ্ছে এসআই রুপককে ফুলের তোড়া দিচ্ছেন শিপু। পুরো নাম নুরুল আলম শিপু। ছিনতাই ও সন্ত্রাসবাদ হল তার পেশা। চকবাজার থানা ছাত্রদলের সভাপতি শিপুর রাজনৈতিক পরিচয়। এছাড়া শিপু নগর বিএনপির আরেক সহ সভাপতি আবু সুফিয়ানের স্ত্রীর ছোট বোনের জামাই। জানা যায়, শিপুর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা রয়েছে নগরীর পাঁচলাইশ থানাতে। সন্ত্রাসী শিপুর নাম রয়েছে চকবাজার থানার বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা আসামির তালিকায়। নগরীর বহদ্দারহাট চকবাজার এলাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের। তাছাড়া অর্ধডজন মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি শিপু। ২০১৭ সালে নগরীর চকবাজারের কাতালগঞ্জ এলাকার এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা ছিনতাইয়ে ভুক্তভোগীর করা মামলায় (মামলা নং-১৫(২)১৭) গ্রেফতার হন শিপু। নগরীর বিভিন্ন থানায় মামলার নথিতেও আছে শিপুর নাম। চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রুপক কান্তি চৌধুরী ও ছাত্রদল নেতা ছিনতাইকারী নুরুল আলম শিপুর মধ্যকার সখ্যতা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা -সমালোচনা। জানা গেছে, তাদের মধ্যে ঘনিষ্ট শখ্যতা দীর্ঘদিনের এমনকি শিপুর আস্তানায়ও যান এসআই রুপক। পুলিশের এই এসআই শিপুর সঙ্গে জড়িয়ে নানা অনিয়ম দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি শিপুর নানা অপরাধের প্রশ্রয় দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে এই এসআই রুপকের বিরুদ্ধে। চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার ও পাঁচলাইশ জোন এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের হরতাল-অবরোধ চলাকালে ককটেল হামলা, পেট্রল বোমাসহ নাশকতায় শিপুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ আছে। আন্দরকিল্লা থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত ছিনতাই চক্রের অন্যতম নিয়ন্ত্রক শিপু রাজনীতিতে নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন ও সহ-সভাপতি এমইবি গ্রুপের শামসুল আলমের অনুসারী বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। শিপু বিএনপির ছাত্র সংগঠনের নেতা হলেও তার বড় ভাই নুর মোস্তফা টিনু যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত।নুর মোস্তফা টিনুর নামও আছে পুলিশের তালিকায়। অস্ত্রসহ র‌্যাবের হাতে টিনু আটক হয়ে এখন কারাগারে কিন্তু তার ভাই শিপু এখন সেই অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে। এদিকে বহদ্দারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রূপক কান্তি চৌধুরীর মোবাইলে শিপুর সঙ্গে সখ্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মানুষ মানুষের সাথে ছবি তুলে না, এটারে নিয়া লম্বা করার কোন কারণ আছে, তারে তো আমি চিনিও না। আমি কি ফাঁসির আসামি। শিপুর জামিন হয়েছে, সে মানুষ না, তার সাথে আমি কি চলতে পারি না, তার কি গণতান্ত্রিক মানবাধিকার নাই। সে কি ফাঁসির আসামি নাকি তার সাথে চলন যাইবো না। আমার ইজ্জত গেছে গেছে, আপনেও তো যাই মানুষের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে আসেন ৫০০ টাকা, এক হাজার টাকা। আমাকে এভাবে পারিবারিকভাবে হেরেসমেন্ট করার কোন দরকার আছে বলেন।আমার ভাই ভুল হয়েছে। আজকে ৪দিন আমি এই বিষয় নিয়ে ঘুমাইতে পারছি না। আমাকে আপনারা কেন এত অপমানিত করবেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *