চট্রগ্রামে ‘মানবিক ধর্ষক’ গ্রেপ্তার

সারাবাংলা

চট্রগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পাঁচ শিশুকে দীর্ঘদিন ধরে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগে মো. নাছির উদ্দিন (৩৫) নামের এক মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম আদালতে এই মাদ্রাসা শিক্ষক নিজেকে ‘মানবিক ধর্ষক’ দাবি করে জবানবন্দি দিয়েছে। শিশু ছাত্ররা যেন কোনোভাবে ব্যথা না পায়, সেভাবে তাদের ধর্ষণ করা হতো বলে আদালতকে জানায় নাছির উদ্দিন।

রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মাহবুব মিল্কি জানান, এক ছাত্রের অভিভাবকের মাধ্যমে অভিযোগ পেয়ে প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। তদন্তে পাঁচ শিশু ছাত্রকে দিনের পর দিন ধর্ষণের বিষয়টি বেরিয়ে আসে।

মাহবুব মিল্কি জানান, নাছির উদ্দিন রাঙ্গুনিয়ার একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতো। গত কয়েক মাস ধরে মাদ্রাসার আবাসিক পাঁচ শিক্ষার্থীকে ভয় দেখিয়ে নিয়মিত ধর্ষণ করে আসছিল সে। সম্প্রতি ওই শিশুরা মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে গিয়ে পরিবারের কাছে বিষয়টি জানায়।

মঙ্গলবার বিকেলে নাছির উদ্দিনকে আদালতে হাজির করা হলে শিশু ধর্ষণের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। ধর্ষণের শিকার শিশুদের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান মিল্কি।

এদিকে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার ও তার স্বীকারোক্তির উদ্বৃতি দিয়ে রাঙ্গুনিয়া সার্কলের সহকারী পুলিশ সুপার শামিম আনোয়ার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বলেন, ‘‘মাদ্রাসা শিক্ষক নাছিরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ফিরিস্তি শুনলে এই মায়া বাক্যকে পরিহাসই মনে হবে। মাদ্রাসার হোস্টেলের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বে থাকার সুযোগ নিয়ে ভয় দেখিয়ে অনেক শিশু ছাত্রকেই নিয়মিত বিছানার সঙ্গী করে সে। এ ঘটনার প্রাথমিক অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে যা বের হয়ে আসে, তাতে শিউরে উঠবেন যেকোনো বিবেকবান মানুষই।

‘ধর্ষণ করার জন্য মূলত দশ বছরের কম বয়সী ছেলে শিশুদেরই টার্গেট করতো সে। কোনো শিশু তার আহ্বানে সাড়া না দিলে তাকে বাধ্য করা হতো। কারণে অকারণে বেধড়ক মারধর করা হতো। যেহেতু সেখানে বেশিরভাগ শিশুই এতিম/দরিদ্র পরিবার থেকে আসা, শেষ পর্যন্ত তার পক্ষে হুজুরের প্রস্তাবে হ্যাঁ বলা ভিন্ন কোনো উপায় থাকতো না।

‘নাছিরের ছেলেশিশু আসক্তি এমন পর্যায়ে উন্নীত হয়েছিলো যে, বিষয়টি টের পেয়ে তার স্ত্রী তিন বছরের সন্তানকে নিয়ে তাকে ছেড়ে চলে যান।”

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *