চন্দ্র শেখর হত্যা জামিনে বের হয়ে হুমকি প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সারাবাংলা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ৪ সপ্তাহের জামিনে বের হয়ে হত্যা মামলার আসামি বাদী ও বাদীর স্ত্রীকে মামলা তুলে নিতে খুন জখমসহ বিভিন্ন হুমকি-ধামকির প্রতিবাদে হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আশাশুনির বৈকরঝুটি গ্রামের মৃত রাজবিহারীর ছেলে শংকর সরকার।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। আমি দুটি সন্তানের জনক। আমার একমাত্র পুত্র সন্তান চন্দ্র শেখরকে গত বছরের ১৮ অক্টোবর রাতে তারই বন্ধু আব্দুল মজিদের পুত্র মুবাশিশর শ^াসরোধ করে হত্যা করে। এঘটনায় আমি গত বছরের ২০ অক্টোবর একটি মামলা দায়ের করি। ওই মামলায় আটক হয়ে মামলার একমাত্র আসামি মুবাশিশরকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। আটকের পর ১৬৪ ধারায় মামলার একমাত্র আসামি মুবাশশির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল ইসলামের সামনে জবানবন্দিতে মুবাশিশর কিভাবে আমার একমাত্র পুত্রকে শ^াসরোধ করে হত্যা করে তার বর্ণনা দিয়েছে। এ ছাড়া আশাশুনি থানা পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা মুবাশিশের বিরুদ্ধে চার্জশীট দিয়েছেন। আটকের পর হত্যাকারী মুবাশিশর পুলিশের সামনে আমার পুত্রকে হত্যার পর কোথায় মোবাইল ফেলেছিল, সীম ফেলেছিল, লুঙ্গি ও জুতা তুলে দিয়েছিল। সে সময় ভিডিও করা আছে। তারপরও আসামি গত বছরের ৮ মার্চ আদালত থেকে ৪ সপ্তাহের জামিনে মুক্তি লাভ করে। এরপর বাড়িতে ফিরে আমাকে সহ আমার স্ত্রীকে মামলা তুলে নিতে খুন জখমসহ বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছে। ৪ সপ্তাহের জামিন পেলেও প্রায় ১ বছর প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে ওই হত্যাকারী মুবাশিশর। এতেই ক্ষ্যান্ত নয় হত্যাকারী মুবাশিশর, প্রকাশ্যে হুমকি প্রদর্শন করে বলছেন,“মামলায় আমার কিছুই হবে না, মাত্র ৪ মাসের জমিনে আসলেও আর জেলে কেউ ঢোকাতে পারবেনা, সুতরাং মামলা তুলে নিলে তোকেও হত্যা করে আবার ২ মাস জেল খেটে বাড়ি আসবো। এছাড়া আমার স্ত্রীকেও রাস্তাঘাটে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, লাঞ্চিতসহ বিভিন্ন হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে যাচ্ছে। আমার স্ত্রী একমাত্র পুত্র সন্তানকে হারিয়ে পাগল প্রায় হয়ে গেছে। অথচ যে হত্যা করল সে হত্যার কথা স্বীকার করেও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আবার মামলা তুলে নিয়ে হুমকিও দিচ্ছে। এতে আমার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। একদিনে সন্তান হারানোর বেদনা, অন্যদিকে আসামির হুমকি-ধামকিতে আমরা অতিষ্ঠ।
তিনি আরও বলেন, হত্যাকারী নিজেই স্বীকার করেছে কিভাবে হত্যা করেছে। তারপরও প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারে এটি আমাদের বুঝে আসে না। সন্তান যে হারিয়েছে সেই জানে এর যন্ত্রনা কতটা। সেই যন্ত্রনা নিয়ে সন্তান হত্যার আসামীর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবিতে ঘুরে বেড়াচ্ছি। যাতে আর কেউ অন্যের কোল খালি করতে না পারে সে কারনে তিনি একজন পুত্র হারা পিতা হিসেবে ওই খুনিকে গ্রেফতারপূর্বক দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি ফাঁসির দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *