চলতি মাসেই বসতে পারে পদ্মা সেতুর আরো দুটি স্প্যান

জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: বন্যা ও তীব্র স্রোতের কারণে দীর্ঘ চার মাস পদ্মা সেতুতে বসানো যায়নি কোন স্প্যান। টানা বিরতির পর সেতুর স্প্যান বসানোর প্রক্রিয়া আবারও স্বাভাবিক হতে চলেছে। এরইমধ্যে বসেছে সেতুর ৩২ তম স্প্যান। এই মাসেই সেতুর মাওয়া প্রান্তে ৩৩ এবং ৩৪ নম্বর দুটি স্প্যান বাসনো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।

এর আগে গত রবিবার ১১ অক্টোবর ৩২ তম স্প্যান মাওয়া প্রান্তের ৪ এবং ৫ নম্বর পিলারে বসিয়েছে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ। এর ফলে সেতুর প্রায় চার হাজার ৪০০ মিটার বা (৪.৮০ কি:মি) অর্থাৎ প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এর কাছাকাছি দৃশ্যমান হয়ে গেছে।

এদিকে, করোনাভাইরাস, বন্যার ফলে নদীতে পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে পদ্মা সেতুর কাজ থেমে না থাকলেও কিছুটা গতি কমেছিলো। বর্তমানে বন্যা ও নদীর স্রোত দুটোই কমার ফলে সেতুর কাজ পুরোদমে এগিয়ে নিতে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেয় পদ্মাসেতুর বাকি নয়টি স্প্যান বসানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ।

স্প্যান বসানোর বিষয়ে জানতে চাইলে পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের বলেন,‘চলতি মাসের (অক্টোবর) মধ্যেই আমরা দুটি স্প্যান বসানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। সব কিছু ঠিক ঠাক থাকলে আগামী ২০-২২ অক্টোবরের মধ্যেই ৩ এবং ৪ নম্বর পিলারের উপর বসানো হবে ৩৩ তম স্প্যান। এই মাসের শেষে ৩০ অক্টোবরের দিকে বসানো হতে পারে ৩৪ তম স্প্যান। একইভাবে বাকি সবগুলোই স্প্যান চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই বসিয়ে ফেলতে পারবো বলে আশা করছি।’

তিনি আরও বলেন,‘সামনে স্প্যান বসাতে তেমন কোন বাধা আমাদের নেই। একটি স্প্যান বসানোর ১০ দিন পরেই আরেকটি স্প্যান বসানো যায়। তাছাড়া জাজিরা প্রান্তে বসানো স্প্যানের ওপর রোডওয়ে ও নিচে রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ চলমান আছে। এরইমধ্যে পদ্মা সেতুর উপরে সড়ক পথ প্রায় দুই হাজার ২০০ মিটার এগিয়েছে অর্থাৎ প্রায় দুই কিলোমিটারের বেশি দৃশ্যমান হয়েছে।’

এদিকে প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, পুরো সেতুতে মোট পিলারের সংখ্যা ৪২ টি। সবগুলো পিলারের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। একটি থেকে আরেকটি পিলারের দূরত্ব ১৫০ মিটার। এই দূরত্বের লম্বা ইস্পাতের কাঠামো বা স্প্যান জোড়া দিয়েই সেতু নির্মিত হচ্ছে। ৪২টি পিলারের ওপর ৪১টি স্প্যান বসানো হবে। স্প্যানের অংশগুলো চীন থেকে তৈরি করে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। পুরো সেতুতে ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাব এবং রেলওয়ে স্ল্যাব ২ হাজার ৯৫৯টি বসানো হবে।

সেতুর কাজের অগ্রগতির বিষয়ে জান যায়, নদী শাসনের কাজের অগ্রগতি হয়েছে প্রায় ৭৪ শতাংশ।পদ্মা সেতুর কাজের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৮১ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং মূল কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ।দ্বিতল এই সেতু মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে হচ্ছে।যার দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। বর্তমান সেতু নির্মাণে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। দুই প্রান্তে টোল প্লাজা, সংযোগ সড়ক, অবকাঠামো নির্মাণ করছে দেশিয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

উল্লেখ, চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি ৩২ এবং ৩৩ নাম্বার পিলারের উপর বসেছে ২১ তম স্প্যান এবং ২৩ জানুয়ারি মাওয়া প্রান্তের ৫ এবং ৬ নাম্বার পিলারের উপর বসেছে ২২ তম স্প্যান এবং ফেব্রুয়ারি মাসের ২ তারিখে বসেছে ২৩ তম স্প্যান, ১১ ফেব্রুয়ারি বসেছে ২৪ তম স্প্যান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি বসেছে ২৫ তম স্প্যান, ১০ মার্চ বসেছে ২৬ তম স্প্যান এবং ২৮ মার্চ বসেছে ২৭ তম স্প্যান, ১১ এপ্রিল বসেছে ২৮ তম স্প্যান, ৪ মে বসেছে ২৯ তম এবং ৩০ মে বসেছে ৩০ তম স্প্যান, ১০ মে বসেছিলো ৩১ তম স্প্যান এবং সবশেষে ১১ অক্টোবর বসেছে ৩২ তম স্প্যান।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *