চশমা ছাড়া পড়েন কোরআন শরীফ

সারাবাংলা

ছবি : তফিল উদ্দিন (১১০)
মাহবুব হোসেন, ভূরুঙ্গামারী থেকে
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ১১০ বছর বয়সেও চোখে চশমা ছাড়া পবিত্র কোরআন শরীফ পড়েন উপজেলার একমাত্র প্রবীণ ব্যক্তি তফিল উদ্দিন। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার নাম তফিল উদ্দিন, পিতা মৃত উমেদ আলী, জন্ম তারিখ ২৯ নভেম্বর ১৯১১। সে মতে বর্তমানে তার বয়স ১১০ বছর। উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের কানিপাড়া গনাইরকুটি (চৌধুরী বাজার) গ্রামে তার বাড়ি। এলাকাবাসী ও স্বজনদের দাবি, পরিচয়পত্রে জন্মসাল ভুল রয়েছে। তার প্রকৃত বয়স ১৩০ বছর। তার পরিচয়পত্রে জন্ম তারিখ অনুযায়ী তিনি একাধারে তৎকালীন ব্রিটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের নাগরিক। তার বাড়িতে খোঁজ নিতে গেলে বৃদ্ধ তফিল উদ্দিনকে চশমা ছাড়াই কোরআন শরীফ পড়তে দেখা যায়। পাঁচ ছেলে ও পাঁচ মেয়েসহ দশ সন্তানের পিতা তফিল উদ্দিন। অবশ্য তাঁর স্ত্রী ১৯৯২ সালে ও বড় ছেলে ২০০০ সালে মারা গেছে। তিনি এখন বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। তবে বর্তমানে বয়সের ভাড়ে চলাফেরা করতে না পারলেও দৈনিক ৫ ওয়াক্ত নামাজ ও কোরআন তেলাওয়াত করেন। চশমা ছাড়াই সবকিছু ভালোভাবে দেখতে পান। নিয়মিত ফজরের নামাজের পর খালি চোখে কোরআন শরীফ তেলোয়াত করেন। শতবর্ষী এই মানুষটি এখন ভূরুঙ্গামারীতে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ তাকে দেখতে ও দোয়া নিতে আসেন।
আলাপচারিতায় তফিল উদ্দিন জানান, যুবক বয়স থেকে তিনি আবাদী জমির ধানের ঢেঁকি ছাটা চালের ভাত, নদী ও খাল বিল থেকে মারা দেশি মাছ, বাড়িতে পালিত হাঁস-মুরগির গোস্ত, দুধ, দেশি মুরগি ও হাঁসের ডিম, খাঁটি সরিষার তেল, নিজের উৎপাদিত বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজি ও প্রচুর ফল মূল খেতেন। এই বয়সে বসন্ত রোগ ছাড়া বড় ধরনের কোনো রোগ-ব্যাধি তার হয়নি। তিনি আরও জানান, নোয়াখালি থেকে এক হুজুর এসেছিল। তার কাছ থেকেই তিনি বাংলা ও আরবী পড়া শেখেন। বাড়ির পাশে মসজিদে একাধারে ৭০ বছর যাবৎ ইমামতি করেছেন। চর বলদিয়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক ছিলেন তিনি। স্পষ্ট উচ্চারণে কোরআন শরীর পড়েন তফিল উদ্দিন। পত্রিকা ও বইও পড়তে পারেন। রাতে কুপি জ্বালিয়ে কোরআন শরীফ পড়ার স্মৃতি ভোলেননি আজও। তিনি স্মৃতি চারণ করে বলেন, আমাদের একটি জমি দুধকুমার নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। আমার বাবা বলতেন এই জমির দলিল যেদিন হয়েছে। সেদিন তুমি জন্মগ্রহণ করেছো। সে মতে আমার বর্তমান বয়স ১৩০ বছর। তিনি আরও বলেন, আমি অনেক ভালো আছি। আল্লাহ পাক আমাকে সুস্থ রেখেছেন। এজন্য আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জামাল হোসেন জানান, ভূরুঙ্গামারীতে এত প্রবীণ একজন ব্যক্তি আছেন আমার সেটা জানা ছিল না। আমি যেদিন জানতে পেরেছি সেদিনই প্রবীন এই ব্যক্তিটির জন্য একটি বয়স্ক ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করেছি। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুননবী চৌধুরী খোকন বলেন, এই সব প্রবীন ব্যক্তি দেশ ও জাতির সম্পদ তাদের অবহেলা করা যাবে না। নতুন প্রজন্ম তাদের থেকে অনেক কিছু শিখতে পাবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *