চাঁদাবাজির সংবাদ প্রকাশ

সারাবাংলা

প্রেসক্লাবে তালা ঝোলালেন দৌলতপুর ইউএনও
সাইফুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ থেকে:
স্বাধীনতা দিবস পালনের নামে ইউএনও’র চাঁদাবাজির সংবাদ দেশের বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরুল হাসান। গত শুক্রবার স্বাধীনতার সুবর্নজয়ন্তী উৎসবের প্রাক্বালে সকাল ৭টায় দৌলতপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে তালা ঝুলিয়ে দেন তিনি। অনাকাঙ্খিত এই ঘটনার পরপরই মানিকগঞ্জে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সাংবাদিকরা এই ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস বাঙ্গালি জাতির ইতিহাসে একটি গৌরবময় দিন। এই দিনে প্রেসক্লাবে তালা ঝুলিয়ে সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করে বাক স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। অতি শীঘ্রই ন্যক্কারজনক এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এ ছাড়া ইউএনও কর্তৃক প্রেসক্লাবে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিন্দার ঝড় উঠে। দৌলতপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দি নিউ নেশন পত্রিকার মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি এ.বি. খান বাবু বলেন, স্বাধীনতার সুবর্নজয়ন্তী উৎসবে জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করছে পুরো জাতি। ঠিক এই মুহূর্তে বাক স্বাধীনতার কন্ঠরোধ করার ভিন্নরকম পায়তারা শুরু করেছেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইমরুল হাসান। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে চাঁদাবাজির সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি দৌলতপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে তালা ঝুলিয়ে দেন। তালাবদ্ধ ভবনটিতে ২০১৪ সাল থেকে প্রেসক্লাবের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। মানিকগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, মহান স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির দিনে পেসক্লাবে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এই লজ্জাজনক ঘটনায় গোটা সাংবাদিক সমাজকে অপমান করেছে। প্রেসক্লাবটি সরকারি ভবনে অবস্থিত। ভবনটি সরকারি প্রয়োজনে খালি করার দরকার হলেও প্রেসক্লাবটি সড়ানোর জন্য লিখিতভাবে নোটিশ করার প্রয়োজন ছিল। বিনা নোটিশে প্রেসক্লাবে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় জেলা প্রেসক্লাব তথা গোটা সাংবাদিক মহল মর্মাহত। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। অনতিবিলম্বে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি জানাই।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর বলেন, আজকের এই দিনে প্রেসক্লাবে তালা ঝুলিয়ে সাংবাদিক সমাজকে অপমানিত করেছে। কোনো সরকারি কর্মকর্তা এইভাবে প্রেসক্লাবে তালা ঝুলাতে পারে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে এঘটনায় সরকার পদক্ষেপ না নিলে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরুল হাসান বলেন, ভবনটি সরকারি। দীর্ঘদিন যাবৎ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা অবৈধভাবে ভবনটি ব্যবহার করে আসছে। ক্লাবের সভাপতি এ.বি.খান বাবুকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ভবন ছেড়ে দেওয়ার জন্য মৌখিক নির্দেশ দিয়েছি। তার মা অসুস্থ থাকায় পর আরও ১২ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। তিনি বেধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ভবনটি ছেড়ে না দেওয়ায় বাধ্য হয়ে সরকারি স্বার্থ রক্ষায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *