চাঁদের মাটিতে চলবে মোটরসাইকেল!

আন্তর্জাতিক তথ্য প্রযুক্তি

ডেস্ক রিপোর্ট: চাঁদের মাটিতে চলবে মোটরসাইকেল। এমনই সাইকেলের নকশা করেছেন রুশ বিজ্ঞানীরা। এটি বানাবে জার্মানিরা।

পৃথিবীতে দুই চাকার মোটরসাইকেল চললেও চাঁদের জন্য নির্মিত মোটরসাইকেল হবে চাকাহীন। যা দেখতে মহাকাশ রোভারের মতো হবে না। বিজ্ঞানীরা বিশেষ এই বাইকের ওজন কমানোর জন্য এটি অন্যভাবে ডিজাইন করেছেন। তারা মহাকাশ যানে ভারি বস্তু বয়ে না নেয়ার জন্যও এমন ডিজাইন করেছেন। এই বাইক হবে জ্বালানি সাশ্রয়ী।

বেশি জ্বালানি বা বেশি ওজনের ব্যাটারি সঙ্গে নিয়ে গেলে যে মহাকাশযানের ওজনই বেড়ে যায়। অনেক দূরের পথে যা একেবারেই কাম্য নয়। বিপদের আশঙ্কাও বাড়ে তাতে! চাঁদের এই মোটরসাইকেলের নকশাটি বানিয়েছেন এক রুশ প্রযুক্তিবিদ। অ্যান্ড্রু ফ্যাবিশেভ্‌স্কি। পেশায় যিনি মস্কোর অটোমোটিভ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনার।

চাঁদের এই মোটরসাইকেল চলবে বিদ্যুৎশক্তিতে। সেই বিদ্যুৎশক্তি উৎপাদনের জন্য মোটরসাইকেলের ভিতরেই থাকবে শক্তিশালী ব্যাটারি। যা সৌরশক্তিতে চালানোর কথাই ভাবা হয়েছে প্রাথমিক ভাবে। ফলে, চাঁদের বুকে মোটরসাইকেল চালাতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎশক্তি উৎপাদনেরও কোনও খরচ পড়বে না। শুধু সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে সোলার ব্যাটারি। আরও কিছু যন্ত্রাংশ। খুব সামান্য ওজনের।

চাঁদের জন্য মোটরসাইকেলের ত্রিমাত্রিক বেশ কয়েকটি নকশা এঁকে ফেলেন ফ্যাবিশেভ্‌স্কি। সেগুলো কার কেমন লাগছে জানতে, বুঝতে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন নকশাগুলো।

সেগুলি অনেকের সঙ্গে চোখে পড়ে যায় জার্মানির ড্রেসডেনে মোটরসাইকেলের নকশা তৈরির বিশেষজ্ঞ সংস্থা ‘হুকি কোম্পিনার এক পদস্থ কর্তার। তিনিই যোগাযোগ করেন ফ্যাবিশেভ্‌স্কির সঙ্গে।

জানান, নকশাগুলো তার খুবই পছন্দ হয়েছে। তাই তার প্রতিষ্ঠান হুকি কো সেগুলোকে আর শুধুই নকশায় বেঁধে না রেখে বাস্তব রূপ দান করতে চায়। তার জন্য কী কী করণীয় প্রযুক্তির দিক থেকে, সে ব্যাপারে ফ্যাবিশেভ্‌স্কির পরামর্শ চান হুকি কোম্পিনার কর্তা।

ফ্যাবিশেভ্‌স্কি জানিয়েছেন, চাঁদের মোটরসাইকেল যতটা সম্ভব হাল্কা করার চেষ্টা হচ্ছে। দুটি চাকা চালানো হবে বিদ্যুৎশক্তিতে। থাকবে ইলেকট্রিক সাসপেনসনও। আর সেই মোটরসাইকেলের রং হবে ধবধবে সাদা। যাতে সূর্যালোকের যতটা সম্ভব প্রতিফলন ঘটানো যায়। তাতে চাঁদের বুকে বহু দূর পথ পাড়ি দিয়েও গরম হয়ে পড়বে না মোটরসাইকেল।

 

চাঁদে যে বায়ুমণ্ডল নেই, যা সূর্যের তাপ কিছুটা হলেও রুখতে পারে। তবে মোটরসাইকেলকে কাঙ্খিত গতিতে চালানোর জন্য দরকার হয় কিছুটা মসৃণ রাস্তা। তাই চাঁদেরও যে অংশ কম এবড়োখেবড়ো সেখানেই চালানো হবে এই মোটরসাইকেল।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *