চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা

সারাবাংলা

আজিজুল ইসলাম, লালমনিরহাট থেকে
প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘরটি বিক্রি করে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েও চাকরি মিললো না সেলিম হোসেনের। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে এই টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তপন সাধু নামে এক প্রতারক। পরবর্তীতে তপন সাধুর এই প্রতারণার সংবাদ প্রকাশ করায় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৫, লালমনিরহাটে একটি মানহানির মামলা দায়ের করেন প্রতারক তপন সাধু। চাকরি প্রার্থী সেলিম কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের উ. বালাপাড়া গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে। প্রতারক তপন চন্দ্র রায় বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র ফোরাম লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতি এবং উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নওদাবাস এলাকার ভুবেন চন্দ্র রায়ের ছেলে।
সেলিমের পরিবার জানান, দেড় বছর আগে তপন সাধু সরকারের সমাজসেবা দফতরে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সেলিম হোসেনের কাছে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। সেলিম তার বাস্তুভিটা ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া একটি ঘর বিক্রি করে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেয় বলে জানান সেলিমের স্বজনরা। দীর্ঘদিনেও চাকরির কোন সুরাহা না হওয়ায় তার দেওয়া টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিতে থাকে সেলিম। টাকা উদ্ধারের জন্য স্থানীয় ভাবে কয়েক দফা সালিশও হয়েছে। পরবর্তীতে টাকা দেওয়ার তারিখ দিয়েও ব্যর্থ হয়ে সময় বাড়িয়ে নেওয়ার জন্য গত ২৫ সেপ্টেম্বর সেলিমের বাড়িতে যায় তপন সাধু। পরে সেলিম তপন সাধুকে আটক করে স্থানীয় লোকজন, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ইউপি সদস্যদের ডেকে আনেন এবং তপন সাধুকে চাকরির জন্য ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার বিষয়টি অবগত করান। তপন সাধু টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে দুই কিস্তিতে পরিশোধের একটি মুচলেখা দিয়ে মুক্ত হন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে তপন সাধু দুই সাংবাদিকের নামে কোটি টাকার মানহানিকর একটি মামলা রুজু করেন।
এ বিষয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় চন্দ্রপুর ইউনিয়নের সাবেক সদস্য আব্দুল বারেক ও একই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের উ. বালাপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য দীনবন্ধু রায় মুচলেখা দিয়ে তপন সাধুর মুক্ত হওয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তারা বলেন, সেলিম হোসেন সরকারের সমাজসেবা দফতরে চাকরি পাওয়ার আশায় তার বাস্তভিটা এবং প্রধামন্ত্রীর দেওয়া ঘরটি বিক্রি করে তপন সাধুকে ২ লাখ ৮০ হাজার দেয়। দীর্ঘদিন পার হলেও চাকরি না হওয়ায় বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে সেলিমের বাড়ীতে সালিশে বসেছিলাম। সেখানে তপন সাধু ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাকরির কথা বলে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। সালিশে তপন সাধু দুই কিস্তিতে টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করে একটি মুচলেখায় স্বাক্ষর করে সেদিন মুক্তি পায়।
এ বিষয় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. আবু বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২৬ অক্টোবর অবশিষ্ট ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে স্টাম্পে লিখিত অঙ্গীকার করলেও তিনি (তপন সাধু) অঙ্গীকারে ব্যর্থ হলে গত বৃহস্পতিবার রাতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জমা করেন ইউপি সদস্যর হাতে। এ ব্যাপারে তপন কুমার রায় সাধুর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ইউপি সদস্য দ্বীনবন্ধু রায়ের কাছে আমার ব্যবহারকৃত একটি মোটর সাইকেল জমা রয়েছে। আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। প্রতিপক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সাংবাদিক আমার নামে সংবাদ প্রকাশ করেছে। তাই আমি তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *