চাটখিলের কৃতি সন্তান

সারাবাংলা

রফিকুজ্জামান, চাটখিল থেকে
নোয়াখালীর চাটখিলের কৃতি সন্তান ইঞ্জিনিয়ার ওয়াহিদুর রহমান আজাদ। চাটখিল থানার অন্তরগত ঐতিহ্যবাহী ছয়ানী টবগা মুন্সী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পিতা প্রয়াত আলহাজ্ব মো. গোলাম মাওলা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ছিলেন এবং মাতা প্রয়াত আলহাজ্ব নুরজাহান বেগম একজন গৃহিনী এবং রত্নাগর্ভা মা ছিলেন। তারা ছয় ভাই এবং এক বোন সবাই উচ্চ শিক্ষিত। চাটখিল সাব বাড়ি প্রাইমারী স্কুলে তার লেখাপড়ার হাতে খড়ি। তিনি দ্বিতীয় শ্রেনি থেকে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত চাটখিল জুনিয়র হাই স্কুল এবং সপ্তম শ্রেণি চাটখিল পাঁচগাঁও বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যায়ণ করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৭৮ সালে জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি লাল বিহারী বহু মুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে চার বিষয়ে লেটার মার্কসহ প্রথম শ্রেণীতে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৮০ সালে তিনি ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজ থেকে ৮২ শতাংশ নম্বর পেয়ে তিন বিষয়ে লেটার মার্কসহ এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে তিনি স্বনামধন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ১৯৮৬ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ, আইইবি এর একজন আজীবন সদস্য।
প্রকৌশলী আজাদ কখনো সরকারি চাকরি করেননি। বরাবরই স্বাধীনচেতা আজাদ একজন স্বনিয়োজিত প্রকৌশলী। তিনি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের একজন অন্যতম সদস্য। রোড এন্ড ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড নামে তার একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তিনি যার চেয়ারম্যান। তার স্ত্রী হোমায়রা মনোবিজ্ঞানে ঢাকা ইডেন কলেজ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনিও ওই কোম্পানীর একজন পরিচালক। এই দম্পতির এক কন্যা এবং এক পুত্র সন্তান রয়েছে।
ছাত্র জীবন থেকেই প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ওয়াহিদুর রহমান আজাদ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা ছিলেন। সেই সময়ে ১৯৮৩ সালে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকার ঘরোয়া রাজনীতি নিষিদ্ধ করলে তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সুযোগ্যা কন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গে তৎকালীন পনের দলীয় জোটের অন্য নেতাদের মধ্যে চিঠি আদান-প্রদানের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন। তখন থেকেই তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা, মানবতার নেত্রী শেখ হাসিনার একজন গুণমুগ্ধ ভক্ত। ইঞ্জিনিয়ার ওয়াহিদুর রহমান আজাদ বিশ্বের সর্ব বৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল এর একজন জেলা গভর্নর ছিলেন। ২০১২ সালে ঢাকার হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত জেলা ৩১৫বি৩ এর বার্ষিক সম্মেলনে তিনি বিপুল ভোটে ওই জেলার গভর্নর নির্বাচিত হন। ওই বছরই জুন মাসে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে লায়ন্সের জেলা গভর্নর হিসাবে শপথ নেন। বর্তমানে তিনি লায়ন্সের ক্যাম্পেইন ১০০ এর ভাইস এরিয়া লিডার এবং একজন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নেতা। তিনি লায়ন্সের ফ্যাকাল্টি ডেভলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের একজন গ্রাজুয়েট এবং বাংলাদেশে গ্লোবাল লিডারশিপ দলের কোঅর্ডিনেটর। দেশে এবং বিদেশে লায়নদের বিভিন্ন ট্রেনিং প্রোগ্রাম সাফল্যের সঙ্গে পরিচালনা করে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। এই বছর ঢাকায় বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য লায়ন্সের আঞ্চলিক তথা ইসামে (ইন্ডিয়া সাউথ এশিয়া মিডল ইস্ট) সম্মেলনের অর্গানাইজিং কমিটির তিনি কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যেখানে সারা বিশ্ব থেকে প্রায় ২৫০০ লায়ন অংশগ্রহণ করবার কথা রয়েছে। যার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য এবং শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ।
স্বাধীনতা সপক্ষের একজন একনিষ্ঠ এবং আন্তরিক অনুসারী প্রৌকৌশলী আজাদ। এই বছর বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উৎযাপনের প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধু কন্যা তাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ শীল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য পদ প্রদান করেন। যা তার রাজনৈতিক জীবনের বিশাল অর্জন বলে মনে করেন তিনি।
ইঞ্জিনিয়ার ওয়াহিদুরর রহমান আজাদ চাটখিলের প্রখ্যাত প্রয়াত সাখাওয়াত উল্লাহ উকিল সাহেবের পৌত্র, সুপ্রিম কোর্টের সাবেক সভাপতি প্রয়াত অ্যাডভোকেট ওজায়ের ফারুক তার চাচা। চাটখিল পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র নিজাম উদ্দিন ভিপি এবং উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইভু তাহের তার চাচাত ভাই। জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতির মুখপাত্র হিসেবে তিনি চাটখিলের মা মাটি মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে চান। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, টার্কি, লেবানন, দুবাই, মালদ্বীপ, শ্রিলংকা, থাইল্যান্ড, ইন্ডিয়া প্রভৃতি দেশ ভ্রমণ করেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *