চাটখিলে অটোরিকশা চালক হত্যায় গ্রেফতার ১

সারাবাংলা

চাটখিল (নোয়াখালী) থেকে রফিকুজ্জামান :
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চাটখিল উপজেলার রামনারায়নপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামে খুন হওয়া অটোরিকশাচালক নুরুল আমিনের হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত কবিরকে নোয়াখালী জেলার কবিরহাট থানার নলুয়া গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে চাটখিল থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম ঢাকা প্রতিদিনের প্রতিনিধিকে জানায়, নোয়াখালীর চাটখিলের নুরুল আমিন(৩২) পেশায় অটোরিকশা(মিশুক) চালক। রিয়া আক্তার(৭) ও রিমন হোসেন(৫) নামে দুই সন্তানের জনক। প্রতিদিনের ন্যায় গত ২৪ ডিসেম্বর নুরুল আমিন বিকাল ৪.৩০ ঘটিকায় রিক্সা নিয়ে জীবিকার তাগিদে বাহির হয়। কিন্তু রাত আনুমানিক ৮.৩০ মিনিটের সময় সংবাদ আসে নুরুল আমিনের মৃতদেহ চাটখিলের ২ নং রামনারায়নপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের গনি বাড়ীর দরজার সামনে রাস্তার পাশে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় সুপাড়ি গাছের সঙ্গে বাঁধা। সংবাদ পেয়ে চাটখিল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রস্তুত করে।লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলা রুজু হয়। শুরু হয় মামলার তদন্ত।
মাননীয় পুলিশ সুপার নোয়াখালী মহোদয়ের নির্দেশনায় চাটখিল থানা পুলিশ মাঠে থেকে নিরলস তদন্ত চালিয়ে যায়। তদন্তকালে জানা যায় হত্যাকারী নুরুল আমিনকে হত্যা করে অটোরিকশা ও মোবাইল নিয়ে যায়। শুরু হয় রিক্সা উদ্ধারের জন্য গোপন তথ্য সংগ্রহ। তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার। তদন্তের ২ দিন পর টিম চাটখিল শনাক্ত করে হত্যাকারী নোয়াখালী জেলার কবিরহাট থানার নলুয়া গ্রামে অবস্থান করছে। কালবিলম্ব না করে পুলিশ সুপার (নোয়াখালী) মহোদয়ের নির্দেশে টিম কবিরহাট নলুয়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। হত্যাকারী মাহবুবকে ভিকটিমের মোবাইল সহ গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে কৌশলে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে মাহবুবের দেয়া তথ্যমতে উদ্ধার হয় ভিকটিম নুরুল আমিনের অটোরিকশা। মাহবুবুরে দেয়া তথ্যমতে ২৯ ডিসেম্বর ভোরে ফেনী সাহদেবপুর এলাকায় হত্যাকারী মাহবুবের ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার হয় ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল সীম। মাহবুব কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় ভাড়া নিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে মাহবুব ভিকটিম নুরুল আমিনের ঘাড়ে ঘুষি মারলে মৃত নুরুল আমিন জ্ঞান হারায়। অজ্ঞান নুরুল আমিনকে মাহবুব গামছা দিয়ে সুপাড়ি গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে, অটোরিক্সা, মোবাইল ও ভিকটিমের টাকা পয়সা নিয়ে পালিয়ে যায়।
হত্যাকারী মাহবুব নিজের দোষ স্বীকার করে আজ বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দী প্রদান করে। উদঘাটন হয় এক গরীব রিক্সা চালকের হত্যার রহস্য। উজ্জ্বল হয় পুলিশের ভাবমূর্তি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *