চাটখিল করোনার নমুনা সংগ্রহের কেন্দ্র স্বাস্থবিধি উপেক্ষিত ॥ সীমাহীন ভোগান্তি

সারাবাংলা

রফিকুজ্জামান, চাটখিল থেকে
নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শুক্রবার ব্যতিত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। দিনে মাত্র ১ ঘণ্টা করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের সুযোগ দেওয়ায় স্থানীয় জনসাধারণ অনেকটা প্রতিযোগিতা করে করোনা পরীক্ষার নমুনা দিতে হয়। ফলে স্বাস্থ্য বিধি কোনোভাবেই মানা হচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশে চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের একটি কক্ষে করোনা পরীক্ষা করা হয়। করোনা পরীক্ষার নমুনা দিতে আসা গুরুতর অসুস্থ রোগীরা প্রায় ২০ মিটার কাদাজলে মিশে নির্দিষ্ট কক্ষে যেতে হয়। হুইল চেয়ারে করে আসা এবং অক্সিজেন লাগানো জরুরি রোগীদের নমুনা সংগ্রহ কক্ষে যেতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। গত শনিবার সকালে ভোগান্তির শিকার তোফুরা খাতুন (৬৫) নামের শাহাপুর গ্রামের এক অক্সিজেন ব্যবহৃত রোগীর স্বজনরা জানান, গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসলে আজ আর করোনা পরীক্ষা করা যাবে না জানিয়ে রোগী ফিরিয়ে দেয়। তখন তারা শনিবার সকাল ১০টার আগে আসতে বলে। শনিবার সকালে নির্দিষ্ট বুথে রোগী আসলে দেখা যায় কাদাজলে একাকার কেন্দ্রে প্রবেশের পথ। অনেক কষ্টে ওই রোগীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অক্সিজেন খুলে রেখে তার স্বজনরা কোনো রকম কোলে নিয়ে নমুনা দিতে কেন্দ্রে প্রবেশ করে।
একইভাবে নমুনা দিতে আসা অনেক রোগী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলে, করোনার নমুনা দিতে নির্দিষ্ট কেন্দ্র আসলে আগে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে ৫ টাকা মূল্যে টিকিট কাটতে হয়। তারপর আবার রোগী নিয়ে নমুনা সংগ্রহে রুমে ১০০ টাকা ফি দিয়ে পিসিআর ফরম পূরণ করতে হয়। এরপর আবার রোগী নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে নমুনা দিতে হয়। জরুরি রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থায়ই রাখা হয়নি এই কেন্দ্রে। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। নেই এক্স-রে বা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ল্যাব টেষ্ট। এসময় তারা আরও বলেন, মহিলা কলেজের ভেতরে কাদাজলে করোনা পরীক্ষার কেন্দ্র না করে পাশেই জেলা পরিষদের অডিটেরিয়ামের ব্যবস্থা করা হলে জনসাধারনের ভোগান্তি রোধ করা সম্ভব হতো।
এই ব্যাপারে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খন্দকার মোশতাক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে স্বাস্থ্য বিধি লঙ্ঘনের কথা স্বীকার করে বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জায়গা না থাকায় মহিলা কলেজে করোনা পরীক্ষা নমুনা সংগ্রহের ভ্রাম্যমাণ বুথ দেওয়া হয়। এর চেয়ে ভালো সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন জায়গার ব্যবস্থা করা যায়নি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *