চারপাশে নদী: নেই কোনো বেড়িবাঁধ

সারাবাংলা

বাগেরহাট প্রতিনিধি : বহরবুনিয়া। বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত একটি ইউনিয়ন। পানগুছি ও কেওড়া নদীসংলগ্ন এই ইউনিয়নে ৩৬ হাজার মানুষের বাস।

৩৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই ইউনিয়নের বুক চিরে বয়ে গেছে ৬৭টি ছোটবড় খাল। নদীবেষ্টিত এই ইউনিয়নে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণ পানির প্রবেশ ঠেকাতে নেই কোনো বেড়িবাঁধ। যার ফলে জোয়ার-ভাটার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেঁচে থাকতে হয় এলাকাবাসীকে। প্রতিবছর কয়েকবার জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের পানিতে ভাসেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাসুদ শিকদার বলেন, ‘আমরা বিচ্ছিন্ন একটি এলাকায় বসবাস করি। রাস্তা-ঘাট নেই। ভালো স্কুল-কলেজ নেই। নেই হাসপাতাল ও নিত্য প্রয়োজনীয় বাজারের জন্য আধুনিক মার্কেট। এরপরও বাপ-দাদাদের কারণে আমরা এখানে বসবাস করছি। তবে এই ইউনিয়নের মানুষদের রক্ষার জন্য বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে একসময় ইউনিয়ন ছেড়ে বেশিরভাগ মানুষ চলে যাবে।

স্থানীয়রা জানান, স্বাধীনতার পর দেশের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেছে সরকার। কিন্তু বহরবুনিয়ায় কোনো বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি।

বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ওষুধ ব্যবসায়ী সোহাগ বলেন, ‘আমাদের এই ইউনিয়নের চারপাশেই নদী। কিন্তু কোনো বেড়িবাঁধ নেই। ইউনিয়ন থেকে কোথাও যেতে হলে নৌকা বা ট্রলারই একমাত্র ভরসা। ইউনিয়নের অভ্যন্তরের রাস্তাঘাটও অনেক খারাপ।
লতিফ তালুকদার বলেন, ‘বেড়িবাঁধ না থাকায় বছরে কয়েকবার আমরা পানিতে ভেসে যাই। আমাদের রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা ডুবে যায় জোয়ারের পানিতে। নদী ও খালে একটু পানি বাড়লেই ঘরে চলে আসে।

স্থানীয়রা বলেন, এলাকার নদী খালে বছরের বেশিরভাগ সময় লবণ পানি থাকায় এখানে ধানসহ তেমন কোনো ফসল হয় না। যার ফলে বেশিরভাগ মানুষই মাছ চাষ ও নদী-খাল থেকে মাছ ধরে সংসার চালায়।

বহরবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তালুকদার রিপন হোসেন বলেন, ‘যুগযুগ ধরে জোয়ার-ভাটার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জীবন চলছে আমাদের। উপজেলা ও জেলা শহরের সঙ্গে যোগযোগের একমাত্র মাধ্যম ট্রলার ও নৌকা। অসুস্থ মানুষদের চিকিৎসার জন্য নিতে হয় উপজেলা বা জেলা সদরের হাসপাতালে। মুমূর্ষু রোগীদের ক্ষেত্রে অনেক সমস‌্যা হয়।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে আমাদের এই ইউনিয়নে তেমন উন্নয়ন হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি, এই ইউনিয়নে যেন একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে দেওয়া হয়।’

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাহিদুজ্জামান খান বলেন, ‘৩৫/২ পোল্ডারের আওতায় মোরেলগঞ্জের সন্নাসী থেকে রামপাল হয়ে মোংলার জয়মনির ঘোল পর্যন্ত প্রায় ৯৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করি, প্রকল্পটি অনুমোদন হলে ওই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে।’

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *