চারা রোপনের মহোৎসব

সারাবাংলা

খন্দকর আনিসুর রহমান, সাতক্ষীরা থেকে:
শীতের বৈরিতা উপেক্ষা করে সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে ইরি বোরো ধানের চারা রোপনের মহোৎসব চলছে। শীতের কুয়াশা ভেদ করে সাতক্ষীরার কৃষকরা ইরি বোরো ধানের চারা রোপনের ব্যস্ত সময় পার করছে। শীত মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ইরি বোরো ধান চাষের আগাম প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে কৃষকরা আগাম বীজতলা তৈরির কাজ শুরু করেছে। কালবৈশাখীর ঝড়ের কবল থেকে নিরাপদে ধান ঘরে তোলার জন্য কৃষকরা আগাম বীজতলা ও ধানের চারা রোপন শুরু করেছে। নীচু জমির জল না কমায় কিছু কৃষক এখনও বীজ তলা তৈরি করতে পারিনি। তারা অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে ধানের চারা সংগ্রহ করে জমিতে রোপন করছে। চলতি ২০২০-২১ রবি মৌসুমে জেলার সাত উপজেলার কৃষক মাঠজুড়ে বিভিন্ন জাতের ধানের চারা রোপন করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্রি- ৬৩, ৬৭, ৮১ উফশী, এসএল ৮, হিরা-২ শক্তিসহ দেশি ও হাইব্রিড, ২৮ জাতের ধান। চারা রোপনের মাত্র সাড়ে তিন মাসের ব্যবধানে অক্লান্ত পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে মেশিনের সেচ দ্বারা সার দিয়ে বোরো ধান উৎপাদন করে থাকে কৃষকরা।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য সূত্রে, চলতি রবি মৌসুমে হেক্টর প্রতি হাইব্রীড ও উফশী ৪.৩৯ টন ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে জেলার সাত উপজেলায় ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদরে ২৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৬ হাজার ৯০০ টন, কলারোয়ায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে ৬০ হাজার ৪০০ টন, তালায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে ৮৮ হাজার টন, দেবহাটায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে ২৬ হাজার ৮০০ টন, কালিগঞ্জে ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে ২৩ হাজার ৯০০ টন , আশাশুনি ৮ হাজার হেক্টর জমিতে ৩৬ হাজার ৪০০ টন ও শ্যামনগর ২ হাজার হেক্টর জমিতে ৮ হাজার ৮০০ টন। সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (খামারবাড়ি) উপ-পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম জানান, এ বছর সরকারের পক্ষ থেকে জেলার ২২ থেকে ২৩ হাজার কৃষকদের বিনামূল্যে সার, বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর, আশাশুনি, শ্যামনগর ও দেবহাটা উপজেলায় অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা ও আম্পানে বেড়িবাঁধ ভেঙে উপচেপড়া জলে অধিকাংশ গ্রাম জলবন্দি হয়ে যায়। নিচু আবাদী জমি জলে তলিয়ে থাকার কারণে আমন ধান চাষ করা সম্ভব না হয়নি। ফলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষকরা ইরি বোরো ধান চাষের উপর জোর দিয়েছে। জেলায় ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৫১ হাজার ২০০ টন নির্ধারণ করে ধানের চারা রোপনের কাজ চলছে। প্রাকৃতিক বড় কোনো দূর্যোগের কবলে না পড়লে গত মৌসুমের চেয়ে চলতি মৌসুমে কম খরচে কৃষকরা অধিক লাভবান হবে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *