চা বাগানে উত্তেজনা

সারাবাংলা

সালাহ্উদ্দিন শুভ, কমলগঞ্জ থেকে
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জের শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগানে চা শ্রমিক শ্রীজনম ভর (৬৫)-এর নির্মিত ঘর ভেঙে ফেলার বিষয়ে শ্রীমঙ্গলস্থ শ্রম অধিদফতর (ডিডিএল) অফিসে মালিকপক্ষের অসহযোগিতায় ত্রিপক্ষীয় বৈঠকেও সমঝোতা হয়নি। এদিকে প্রতিবাদে অষ্টম দিনের মত  রোববার সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগানে চা-শ্রমিকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। এদিকে মালিকপক্ষের ভাড়াটে লোকজনের সশস্ত্র হুমকির কারণে শ্রীগোবিন্দপুর চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মিলন নায়েক গত শুক্রবার বিকেলে নিরাপত্তা চেয়ে কমলগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) দায়ের করেন। শ্রীগিন্দপুর চা বাগান ব্যবস্থাপকের মৌখিক অনুমতিতে চা শ্রমিক শ্রীজনম ভর (৬৫) তার বসতঘরের সামনে সড়কধারে একটি পাকা ঘর ঘরটি নির্মাণের পর চা বাগানের মালিকের নির্দেশনায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে চা-বাগান ব্যবস্থাপক ও ভাড়াটে কিছু লোকজন নিয়ে এসে নির্মিত এ পাকা ঘরটি ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেন। এর প্রতিবাদে ও ঘর নির্মাণের দাবিতে গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে শ্রীগোবিন্দপুর চা-বাগানে সাধারণ চা-শ্রমিকরা মানববন্ধনও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। গত শনিবার সকাল ১০টায় শ্রীগোবিন্দপুর চা-বাগানে অষ্টম দিনের মত কমলগঞ্জ-বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান সড়কের চা-বাগান প্রধান ফটকের সামনে এ মাববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এসময় ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নারী শ্রমিক নেত্রী গীতা রানী কানু, শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি মিলন নায়েক, সাধারণ সম্পাদক শ্রীরাম ব্যক্তি, নারী নেত্রী গায়ত্রী পাশিসহ বেশ কয়েকজন নেতারা বক্তব্য রাখেন। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেতারা বলেন, ভেঙে ফেলা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া ও চা-শ্রমিকদের বন্ধ রাখা মজুরি প্রদানের দাবি জানান। নেত্রীরা আরও বলেন, সমস্যা সমাধানে শ্রীমঙ্গলস্থ শ্রম অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম গত ২৯ সেপ্টেম্বর একটি পত্রের মাধ্যমে ৩০ সেপ্টেম্বর তার কার্যালয়ে ত্রিপক্ষীয় জরুরি সভা আহ্বান করেছিলেন।
সভায় শ্রীগোবিন্দপুর চা-বাগান ব্যবস্থাপক প্রমান্ত রায়, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতারা ও চা বাগান পঞ্চায়েত নেতরা উপস্থিত ছিলেন। সে সভায় আন্দোলনরত চা-শ্রমিকদের বন্ধ রাখা মজুরি প্রদান ও ভেঙে ফেলা ঘরের বিষয়ে মালিকপক্ষ আন্তরিকভাবে সমাধানের প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হলেও মালিক পক্ষের প্রতিনিধি শ্রীগোবিন্দপুর চা-বাগান ব্যবস্থাপক কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত জানাননি। ফলে এ বৈঠকে কোন সমঝোতাও হয়নি। শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি মিলন নায়েক নিরাপত্তা চেয়ে কমলগঞ্জ থানায় শুক্রবার একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। ডায়েরী সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে অপরিচিত ১০/১২ জন সশস্ত্র লোক তার বাড়ির পিছনে ঘোরাফেরা করছিলেন। বাগানের পাহারাদারসহ তিনি রাতে বের হয়ে তাদের ধাওয়া করলে চা বাগানের প্লান্টেশন এলাকায় গিয়ে এসব অপরিচিত লোকজন হাতে থাকা দা ও রামদা দেখিয়ে তাকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। তিনি মনে করেন, চা-বাগান মালিকপক্ষের ভাড়াটে সশস্ত্র লোক তাকে প্রাণে মারার চেষ্টা করছে। তাই তিনি গত শুক্রবার বিকেলে নিরাপত্তা চেয়ে কমলগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন। শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগান ব্যবস্থাপক প্রশান্ত রায় ৩০ সেপ্টেম্বর ডিডিএল অফিসে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,সেখানে কোন সমাধান হয়নি। তিনি মনে করেন, শ্রীগোবিন্দপুর চা-বাগানের বাহিরের কিছু নেতৃবৃন্দ বিষয়টিকে ঘোলাটে করছেন। তার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের (চা বাগান মালিকের) নির্দেশনা ছাড়া তার পক্ষে কোন সিদ্ধান্ত দেবার নেই।বাংলাদেশ চা-শ্রমকি ইউনিয়নের মনু-ধলই ভ্যালির কার্যকরী কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাশ পাইনকা শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগানের শ্রমিকদের আন্দোলন ও পঞ্চায়েত সভাপতির জিডির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ঘটনাটিকে ইচ্ছে করেই মালিকপক্ষ হিংসাত্বক অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তবে এর পরিনাম তাকে বইতে হবে। কমলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মিলন নায়েকের জিডির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *