চিতলমারীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৮

সারাবাংলা

চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে গত সোমবার দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। তাদের চিতলমারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আশংকাজনক অবস্থায় বাকীরা খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এঘটনায় ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার পিপড়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত মো. জোহর আলী মোল্লার ছেলে জাহিদুল মোল্লার সঙ্গে একই গ্রামের মৃত তুজার সরদারের ছেলে হেলাল সরদারের জায়গাজমি নিয়ে বিরোধ আছে। সোমবার সকালে ওই জমি নিয়ে মারপিট করে এতে দুই পক্ষের নারী-পুরুষ মিলে অন্তত ৮ জন আহত হয়। জাহিদুল মোল্লার বোন রুমিচা বেগম বলেন, হেলাল সরদার তার ভাই এবং দলবল নিয়ে ভোর ৫টার দিকে আমাদের উপর হামলা চালিয়ে একটি মুদি দোকান, একটি বসতবাড়ি ভাংচুর করে এবং গো খাদ্যে আগুন লাগিয়ে দেয়। তাদের বাঁধা দিলে জাহিদুল, জাহিদুলে স্ত্রী, আম্মাসহ আমাদের ৫/৬ জনকে মারপিট করে। এসময় তারা টাকা-পয়সা সোনাদানা লুট করেও নিয়ে যায়।
আহত জাহিদুলের ছোট ভাই ছাত্রলীগ নেতা অহিদ বলেন, ‘পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী হেলাল সরদার ও উকিল মোল্লার নেতৃত্বে বড় ভাই জাহিদুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে আহত করেছে। ভাইকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এছাড়া হামলার সময় তারা আমাদের বাড়ি ও দোকানেও তান্ডব চালিয়ে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটে নিয়ে যায়। আমরা এর বিচার চাই।’
গ্রামের মোল্লা আসাদুজ্জামান বলেন, বহুবছর অগে হরেন্দ্রনাথ মন্ডলের কাছ থেকে ওই জমি হেলাল সরদার’রা নগদ টাকায় ক্রয় করছে। সেখানে ঘর বাঁধতে গেলে জাহিদুল মোল্লা’রা অকারণে বাঁধা দেয় এবং দু’পক্ষের মধ্যে মারপিট হয়। হরেন্দ্রনাথ মন্ডলের নামে ওই জমির এস এ এবং বি আর এস রেকর্ড রয়েছে। জাহিদুল মোল্লাদের হামলায় হেলাল ও তার ভাই’রা আহত হয় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।
আহতরা হলেন, কালীগঞ্জ বাজারস্থ পিপড়াডাঙ্গা এলাকার মৃত জোহর আলী মোল্লার স্ত্রী আলেয়া বেগম, ছেলে জাহিদুল ইসলাম মোল্লা, জাহিদুলের স্ত্রী রীনা বেগম, জাহিদুলের ছোট ভাই শফিকুল ইসলাম, বোন রুমিচা বেগম, বোন জামাই ইরান সরদার। এছাড়া এসময় জমি দখল করতে আসা হেলাল সরদারের পক্ষের শামীম নামের একজন আহত হন।
চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ মামুন হাসান বলেন, ‘সকাল ৯টার দিকে বেশ কয়েকজন কাটাফাটা রোগী আসেন হাসপাতালে। এদের মধ্যে কয়েকজনকে এখানে ভর্তি করা হয়েছে। পিপড়াডাঙ্গা এলাকার জাহিদুল মোল্লা নামের একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। জাহিদুলের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কোপের দাগ রয়েছে।’
চিতলমারী থানার ওসি মীর শরিফুল হক বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। নতুন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করেছি। মারপিটে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছে। কেউ লিখিত অভিযোগ করলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *