চিতলমারীতে নিয়ন্ত্রণহীন সবজির দাম

সারাবাংলা

বিভাষ দাস, চিতলমারী থেকে :
বাগেরহাটের চিতলমারীতে প্রতি হাটে পেঁয়াজ, আলু, কাঁচা মরিচসহ সব প্রকার সবজির মূল্য বৃদ্ধিতে দিশাহারা নিম্ন আয়ের মানুষ। কভিড-১৯ এর কবলে পড়ে তারা কাজ হারিয়েছে। অনেক বেকার জীবন যাপন করছে। করোনার আগে যারা সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিন আয় করতো তারা এখন ২/৩ দিন কোন রকম কাজ করে। কাজ করার বিনিময়ে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে সংসার চালাতে তারা হিমশিক খাচ্ছে। নিয়ন্ত্রণহীন সবজি বাজারে গিয়ে তাদের নাভিশ্বাস ওঠে। উপজেলার বিভিন্ন সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি আলু ৪৫ টাকা, পটল ৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ২০০ টাকা, রসুন ১০০ টাকা, পেঁয়াজ ৮৫ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, কচুরমুখি ৫০ টাকা, কচু ৫০ টাকা, ফুলকপি ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, উচ্ছে ৮০ টাকা, কাকরোল ৬০ টাকা, প্রতিহালি কাঁচাকলা ৫০ টাকা, বিচিকলা ৩০ টাকা ও প্রতিটি লাউ ৩০ থেকে ৬০ টাকা এবং চালকুমড়া ৪০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
নিম্ন আয়ের মানুষরা সব্জির দাম শুনেই অনেকে ফিরে যায়। দায়ে পড়ে কেনাকাটা করলেও অনেকের আগের মতো আর ব্যাগ ভরে না এমনটাই বলছিলেন কাঁচা বাজার করতে আসা খলিশাখালী গ্রামের শান্তি রঞ্জন মন্ডল। বাজার করতে আসা দিনমজুর হান্নান বিশ্বাস বলেন, করোনাভাইরাস আসার আগে পুরো সপ্তাহ কাজ করতাম, এখন অপরিচিত কেউ কাজ করাতে চায় না। সপ্তাহে ২/৩ দিন কাজ করে যে টাকা পাই, তা নিয়ে বাজারে আসলে আর ব্যাগ ভরে না।
চিতলমারী সদর বাজার সবজি ব্যবসায়ী মাসুদ মোল্লা, তায়ফুল শেখ ও অহিদ মোল্লা জানায়, খুলনার কেনা মোকাম খুবই চড়া হওয়ায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আবার দাম বেশির কারণে মানুষ কম কিনছে। ফলে অনেক সময় সবজি অবিক্রিত থেকে যায়। চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মারুফুল আলম বলেন, ব্যবসায়ীরা যাতে কোনরকম অসৎ পন্থা অবলম্বন করতে না-পারে, তার জন্য নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ করছি। শীতকালীন সবজি বাজারে আসা শুরু করেছে। কিছু দিনের মধ্যে এ সমস্যা দূর হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *