চুনারুঘাট পৌরসভায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

সারাবাংলা

জুয়েল চৌধুরী, হবিগঞ্জ থেকে : চতুর্থ ধাপে চুনারুঘাট পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনকে ঘিরে তিনজন মেয়র প্রার্থীসহ ৫৫ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। হবিগঞ্জে অনুষ্ঠিত হওয়া তিনটি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দল না থাকলেও এখানে ইসলামি আন্দোলনের একজন প্রার্থী রয়েছেন। যে কারণে এ পৌরসভা নির্বাচন একটু বেশিই জমজমাট। তবে কোনো দলেই বিদ্রোহী না থাকায় অনেকটা প্রশান্তিতে রয়েছেন প্রার্থীরা। এ পৌরসভায় মেয়র পদে তিনজন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন দাখিল করেছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম রুবেল, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী বর্তমান মেয়র নাজিম উদ্দিন শামছু এবং ইসলামি আন্দোলন মনোনীত হাতপাখার প্রার্থী আব্দুল বাছির। চুনারুঘাট পৌরসভায় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী তিন প্রার্থীর মধ্যে কারও থেকে কেউ এক ইঞ্চিও পিছিয়ে নেই। তিন প্রার্থীই নিজ নিজ দলের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় রয়েছে নিজস্ব ভোট ব্যাংক। এ ছাড়া জনপ্রিয়তার দিক থেকেও পিছিয়ে নেই কেউই।

চুনারুঘাট উপজেলা মূলত আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। এখানে বিপুল সংখ্যক চা শ্রমিক ভোটার হওয়ায় প্রতিটি নির্বাচনেই নৌকার বাক্সে এক চেটিয়া ভোট পড়ে। তবে শুধুমাত্র পৌরসভার হিসেবে ধরলে বিএনপির দাপটও রয়েছে বেশ। যে কারণে ২০১৫ সালের নির্বাচনে লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি প্রার্থীর কাছে হারতে হয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন রুবেল এবং বিএনপি থেকে সামছু। তাদের মধ্যে লড়াইও হয়েছিল হাড্ডাহাড্ডি। মাত্র ১৪ ভোটের ব্যবধানে নৌকার প্রার্থীকে হারিয়ে জয় পেয়েছিল ধানের শীষের প্রার্থী নাজিম উদ্দিন সামছু। এবারও গত নির্বাচনের মতোই কঠিন লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ভোটাররা বলছে, বিএনপি প্রার্থী নাজিম উদ্দিন সামছুও কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই। দীর্ঘদিন মেয়রের দায়িত্ব পালন করায় জনগণের সঙ্গে একটি সম্পর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া মেয়র হিসেবে তার কর্মকান্ডে যথেষ্ট খুশি পৌরবাসী। যে কারণে গত বছরের চেয়ে এ বছর ভোট বেশি পাওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন অনেকে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী রুবেলের বেশ ব্যক্তি ইমেজ রয়েছে। এ ছাড়া সাবেক ছাত্র নেতা হওয়ার কারণে প্রতিটি ওয়ার্ডেই রয়েছে তার কর্মী সমর্থক। যে কারণে শক্তিশালী ভিত্তি গড়তে কাজ করছেন দিন-রাত। প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে। আপাতত দুই প্রার্থীকে নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা চলছেও নিরব প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন ইসলামি আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী আব্দুল বাছির। তিনিও প্রতিটি গ্রাম ও ওয়ার্ডে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে দিন-রাত প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই পৌরসভায় কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর পদে ৫২ জন প্রার্থী নির্বাচনে লড়ছেন। এর মধ্যে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪১ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১১ জন।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র নাজিম উদ্দিন শামছু বলেন, আমি চুনারুঘাট পৌরসভার ২ বারের নির্বাচিত মেয়র। আমি জনগণের সেবা করি বলেই আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে। এবারও আমি শতভাগ আশাবাদি জনগণ আমার কাজের উপর ভিত্তি করে আমাকে মূল্যায়ন করবে। তিনি আরও বলেন, করোনার এমন ক্লান্তি সময়েও আমিও পৌরবাসীর সঙ্গে ছিলাম। আমি সব সময় পৌরবাসীর সঙ্গেই থাকতে চাই। জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠ সুষ্ঠু আছে। তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মিছিল ও সভা করছে। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করেন। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাইফুল আলম রুবেল বলেন, আমাকে সমালোচিত করতেই প্রতিপক্ষ আচরণবিধি লঙ্ঘণের বিষয়টি সামনে আনছেন। আমরা আচরণবিধি মেনেই গণসংযোগ করছি। এ ছাড়া গত নির্বাচনে আমি মাত্র ১৪ ভোটের ব্যবধানে হেরে গিয়েছিলাম। তাই এবারও দল আমার উপর আস্থা রেখে নৌকা মার্কা দিয়েছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড অব্যাহত রাখতে আমি শতভাগ আশাবাদি জনগণ আমাকে বিপুল ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে। তিনি আরও বলেন, নৌকা বিজয়ী হলে চুনারুঘাট পৌরসভাকে একটি আধুনিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

দেশবিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *