ছাতকে পরকীয়া প্রেম, অতঃপর ধর্ষণ

জাতীয় সারাবাংলা

শামীম আহমদ তালুকদার, সুনামগঞ্জ থেকে : সুনামগঞ্জের ছাতকে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ায় আসক্ত এক প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় উপজেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ভবনের ছাদে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। গত রোববার ধর্ষক শাহ আলমকে নিজ বাড়ী তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে মঈনপুর গ্রামের মৃত মাছিম খানের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম ওই নারী দোলারবাজার ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মো. সাজির উদ্দিন ও ভিজিটির সায়েরা বেগম মুক্তার বাসায় মধ্যে মধ্যে ঝিয়ের কাজ করে থাকেন। ধর্ষক শাহ আলমের বাড়ী ভিকটিম নারীর নিকটবর্তী। স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে আসা যাওয়ার সময় তাদের কথা বার্তা হয়। প্রায় এক বছর আগে দুইজনের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে ভিকটিম নারী সবসময় পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিলেন। ধর্ষক শাহ আলমের স্ত্রী শিপা বেগম ও ভিকটিম নারীর মধ্যে কয়েকবার কথা কাটাকাটি হয়। সর্বশেষ ঘটনার দুইদিন আগে ধর্ষক শাহ আলমের স্ত্রীর কাছে প্রমাণ চান ভিকটিম ওই নারী। এতে ধর্ষক শাহ আলমের স্ত্রীর মুঠোফোনে ধারণকৃত শাহ আলম ও ভিকটিম নারীর একান্ত কয়েকটি ছবি দেখানো হয়। ভিকটিম নারী ওই ছবিগুলো কৌশলে তার মুঠোফোন তুলে নিয়ে যান। এরপর ছবি দিয়ে নাটক সাজানো হয়েছে বলে ধর্ষক শাহ আলমের স্ত্রী শিপা বেগমের এ অভিযোগ। এঘটনায় গত সোমবার ভিকটিম নারী বাদী হয়ে শাহ আলমকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ছাতক থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে ভিকটিম নারী বলেন, শাহ আলমের সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক নেই। ঘটনার সময় হাসপাতালের ছাদে কাজ করছিলাম। হঠাৎ করে ছাদের উপরে সে যায়। একা পেয়ে সে আমার উপর অত্যাচার করে। ধর্ষক শাহ আলমের স্ত্রী শিপা বেগম বলেন, আমার স্বামীকে আমি ভাল করে জানি। তিনি এমন জগন্য কাজ করতে পারেন না। তাকে ফাঁসানো হয়েছে।
দোলারবাজার ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মো. সাজির উদ্দিন ও ভিজিটর সায়েরা বেগম মুক্তা বলেন, সরকারি আয়া না থাকায় ডেলিভারী রোগী আসলে আমাদের সহযোগীতার জন্য ও আমাদের বাসায় মধ্যে মধ্যে জল এনে দেয়। তবে আমাদের প্রয়োজনে ফোন করি, তখন সে আসে। কিন্তু ঘটনার দিন ভিকটিম নারী স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ছিলেন না।
এমএলএস এস লিপু তালকদার বলেন, ঘটনার দিন শাহ আলম নামে কাউকে বা ভিকটিম নারীকে কেন্দ্রে আসতে দেখিনি। জাহিদপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই পলাশ বলেন, গত সোমবার ভিকটিমকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে। ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ নাজিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *