এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ মামলার ৪ আসামি গ্রেপ্তার

জাতীয়

গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে প্রধান আসামি ছাত্রলীগকর্মী সাইফুর রহমান রয়েছেন। অন্য তিনজন হলেন অর্জুন লস্কর, মাহবুবুর রহমান রনি ও রবিউল ইসলাম।

ওই নববধূর স্বামীর মামলায় মোট নয়জনকে আসামি করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছয়জনের নাম উল্লেখ করা ছিল, বাকি তিনজন অজ্ঞাতনামা।

ধর্ষিত ওই নারী রোববার সিলেট মহানগর হাকিম শারমিন খানম নিলার কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন। তার উপর চালানো নির্মমতার বিবরণ দিয়েছেন তিনি।

গত শুক্রবার ধর্ষণের ওই ঘটনা ঘটার পর সারাদেশে নিন্দার ঝড় বইছে, সমালোচনার মুখে রয়েছে ছাত্রলীগ। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ধর্ষণকারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

শনিবার সকালে শাহপরাণ থানায় ছাত্রলীগকর্মী সাইফুর রহমানকে প্রধান আসামি করে মামলাটি হয়। কলেজের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, মাহফুজুর রহমান মাছুম, অর্জুন লস্কর ও বহিরাগত ছাত্রলীগ কর্মী রবিউল এবং তারেক আহমদের নাম উল্লেখ করা হয় মামলায়।

প্রধান আসামি সাইফুরকে রোববার ভোররাতে সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে শাহপরান থানার ওসি আব্দুল কাইয়ুম জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “ঘটনার পর থেকেই পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে যাচ্ছিল। রোববার ভোররাতে পুলিশের বিশেষ শাখার একটি দল ছাতক থেকে সাইফুরকে গ্রেপ্তার করে।”

সুনামগঞ্জ ‌জেলা পু‌লি‌শের বি‌শেষ শাখার ও‌সি আ‌নোয়ার হো‌সেন মৃধা বলেন, “গোপন সংবাদের ভি‌ত্তি‌তে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হ‌য়ে‌ছে।”

এরপর অর্জুন লস্করকে গ্রেপ্তার করা হয় হবিগঞ্জের মাধবপুর থেকে।

মাধবপুর থানার ওসি ইকবাল হোসেন জানান, উপজেলার মনতলা ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা দুর্বলপুর গ্রাম থেকে অর্জুনকে আটক করা হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, অর্জুন মনতলা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

রনি ও রবিউলকে হবিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

রনি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বাগুনীপাড়া গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুর জগদল গ্রামে রবিউলের বাড়ি।

র‌্যাব ৯-এর সহকারী পুলিশ সুপার ওবাইন রাখাইন জানান, রোববার ভোরে র‌্যাব সদস্যরা হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নিজামপুর এলাকা থেকে রনি এবং নবীগঞ্জ উপজেলা থেকে রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতে পাঠানো হবে বলে শাহপরান থানার ওসি আব্দুল কাইয়ুম জানিয়ছেন।

তিনি বলেছেন, বাকিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে।

গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে টিলাগড় এলাকার এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া ওই তরুণীকে ক্যাম্পাস থেকে তুলে ছাত্রাবাসে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। বাধা দিতে গিয়ে মারধরের শিকার হন ওই তরুণীর স্বামী।

খবর পেয়ে পুলিশ রাত সাড়ে ১০টার দিকে উদ্ধার করে ওই তরুণীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

রোববার দুপুরে সিলেট মহানগর হাকিম শারমিন খানম নিলার কাছে ধর্ষিত তরুণী জবাববন্দি দেন বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর আদালতের সহকারী কমিশনার প্রসিকিউশন অমূল্য কুমার।

তিনি বলেন, তিনি (ধর্ষিত) আদালতে ওই রাতের ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত বর্ণনা দেন। আদালত ২২ ধারায় তার জবানববন্দি লিবিবদ্ধ করে।

ওই তরুণীর শারীরিক শঙ্কামুক্ত হলেও মানসিকভাবে এখনও দুর্বল বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *