ছুঁটছে শিকড়ের সন্ধানে

সারাবাংলা

নাসির উদ্দিন, ভূঞাপুর থেকে:
সালেহা বেগম (৪৫)। স্বামী গাজীপুরের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। সেখানেই স্বপরিবারে ভাড়া বাসায় থাকেন তারা। ছোট ছোট দুই সন্তান নিয়ে মা ভাড়ায় চালিত মটরসাইকেলে ঝুকি নিয়ে বাড়ি ফিরছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়। এ ঈদে গার্মেন্টস কর্মী স্বামীর ছুটি না হওয়ার আশংকায় দুই সন্তানকে নিয়ে রওনা দিয়েছেন তিনি। সেহরি খেয়ে রওনা হলেও কয়েক দফা গাড়ি পাল্টিয়ে বেলা ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পাড় এসে পৌঁছেছেন। তিনি জানান, স্বামীর গার্মেন্টস ছুটি হলে ওই সময় চাপ বেশি থাকবে। আমাদের নিয়ে আসা অনেক কষ্ট হবে এই ভেবে আগেই পাঠিয়ে দিয়েছেন। ৭ ঘন্টায় বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপাড় আসলাম। এখন মোটরসাইকেলে ৪’শ টাকা দিয়ে সেতু পাড় হয়ে পশ্চিম পাড় গিয়ে ভেঙে ভেঙে বাড়িতে সন্তান নিয়ে যাওয়া অনেক কষ্ট হচ্ছে। কষ্ট যতই হোক বাড়িতে পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদ করতেই হবে এটাই তার বড় পাওয়া। শুধু সালেহা বেগম নয়, তার মতো উত্তরাঞ্চলগামী হাজারো মানুষ করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে দাড়িয়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপাড়ে। উদ্দেশ্য বাড়িতে পরিবার পরিজনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা। তাই যে যেভাবে পারছেন বাড়ি যাচ্ছেন। এদিকে, যার যার কর্মস্থলে থেকে ঈদ করার কথা থাকলেও ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক দিয়ে নানা পন্থায় কয়েকগুণ বেশি ভাড়ায় বাড়ি ফিরছেন মানুষ। দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় খোলা ট্রাক, পণ্যবাহী ট্রাক, মোটরসাইকেলসহ ব্যক্তিগত ছোট ছোট যানবাহনে গাদাগাদি করে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হচ্ছেন তারা। কোথাও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। এতে করে বেড়ে যাচ্ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি। যাত্রীরা জানান, পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদ করাই তাদের মূখ্য বিষয়। যদিও আন্তঃজেলা পরিবহন বন্ধ থাকায় ভোগান্তি ও ঝুঁকি দুটোই বাড়ছে বলে মত তাদের। এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, মহাসড়কের ৫৪টি জায়গায় পুলিশের চেকপোস্ট রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *