ছেলের হত্যার বিচার চাইলেন নয়ন বন্ডের মা

সারাবাংলা

বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনায় প্রকাশ্য দিবালোকে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দেয়া রায়ে খুশি হয়েছেন বন্দুকযুদ্ধে নিহত আসামি নয়ন বন্ডের মা সাহিদা বেগম। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সাহিদা বেগম বিচার ছাড়া তার ছেলের মৃত‌্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রায়ে রিফাত শরীফের স্ত্রীর মিন্নির ফাঁসির আদেশ দেয়ায় খুশি হয়েছেন তিনি।

রায়ের পর দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় সাহিদা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে তো বিনা বিচারে মাইররাই ফালাইছে (মেরে ফেলা হয়)। আমি চাই আমার ছেলেরে (ছেলেকে) যারা মারছে (মেরেছে) তাদেরকেও বিচারের আওতায় আইন্না (এনে) এভাবে বিচার করা হোক। আমি সঠিক বিচার চাই। মিন্নির ফাঁসি…। আমি দেশবাসীর সবাইকে বলবো, সবাই দেখুক এই মেয়ের উছিলায় (কারণে), এই মেয়ে কি ভাবে আমার ছেলেরে ডাইকা নিয়া (ডেকে নিয়ে), মাঠে ফালাইয়া…। বন্ধু বন্ধুকে কিভাবে মাডার হইলো। তারপর এই ছেলেদের বিচার হইলো। মিন্নির ফাঁসির আদেশে আমি খুশি। আমি বলতে চাই এই মেয়ের কারণেই এই ছেলেরা ধ্বংস হয়ে গেছে।’

নয়ন বন্ডের মা আরও বলেন, ‘বরগুনায় তো আমাদের সাথে করোর দ্বন্দ্ব নাই, ছেলের (রিফাত) সাথে দ্বন্দ্ব নেই, উছিলা (কারণ) তো এই মেয়ে। মেয়ে এইভাবে নাটক করে। কত ফেমিলি (পরিবার) ধ্বংস করে দিলো। এই বিচার যেন বাংলার মানুষ দেখতে পায়, এভাবে যেন কোন নারী কোনও বংশ নির্বংশ করে দিতে না পারে। এক মেয়ের উছিলায় (কারণে) আমরা সবাই আহত। আমার ছেলে ভালো হয়ে ঘরে ফিরলো। তারপরও আমার ছেলেকে কেনোও বন্দুকযুদ্ধ দেখিয়ে মেরে ফেলা হলো। আমি রাষ্ট্রপতির কাছে, আইনমন্ত্রীর কাছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার আবদার আমার ছেলের হত্যার সঠিক বিচার চাই।

গতকাল দুপুরে বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ প্রাপ্তবয়স্ক ১০জনের মধ্যে ছয়জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই মামলায় চারজনকে খালাস প্রদান করা হয়েছে। বুধবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পরই মিন্নিসহ দণ্ডপ্রাপ্ত সবাইকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

২০১৯ সালের ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের সামনে রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে হত্যা করে সেই সময়ের বরগুনার আতঙ্ক বন্ড বাহিনীর সদস্যরা। যার নেতৃত্ব দিতেন নয়ন বন্ড। রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ঘটনার দুদিন পুলিশের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হন নয়ন বন্ড।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *