জঙ্গি জিয়ার নির্দেশে ব্লগার নিলয় হত্যা!

জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জিয়াউল হক জিয়ার নির্দেশে ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয়কে হত্যা করা হয় ।

তাকে মূল হোতা দেখিয়ে ইতোমধ্যে আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের দাখিল করা অভিযোগ পত্রে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জিয়াসহ ১৩ জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের আসামি করা হয়েছে।

সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ছিলেন জঙ্গি জিয়া। তার নির্দেশেই এ হত্যাকাণ্ড পরিচালিত হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রমনা জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মিশু বিশ্বাস বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ব্লগার নিলয় হত্যার অভিযোগ পত্র আমরা আদালতে জমা দিয়েছি। ডিবি পুলিশে মামলাটি হস্তান্তর হওয়ার পর থেকেই আমরা এই হত্যার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করেছি। দীর্ঘ সময় তদন্তের পর এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পলাতক আসামি অব. মেজর জিয়াসহ আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের অন্য সদস্যদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে ।’ এ বিষয়ে মামলার অন্যতম তিন আসামি বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

২০১৫ সালের ৭ আগস্ট শুক্রবার জুমার নামাজের পর খিলগাঁওয়ের গোড়ানের বাসায় ঢুকে নিলয়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক রবার্ট ওয়াটকিনস এক বিবৃতিতে খুনিদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। এ ধরনের হত্যা বন্ধে বাংলাদেশ সরকারকে ‘কঠোর হওয়ার’ আহ্বান জানায় মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

হত্যাকাণ্ডের ঘণ্টা চারেক পর আল কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশের (একিউআইএস) বাংলাদেশ শাখা, আনসার আল ইসলামের নামে সংবাদপত্র অফিসে ই-মেইল পাঠিয়ে দায় স্বীকার করা হয়।

নিহত নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয়ের বাড়ি পিরোজপুর জেলার চাল্লিশা গ্রামে। বাবা তারাপদ চট্টোপাধ্যায় নিজের কৃষি জমি দেখাশোনা করেন। নিলয় কাজ করতেন একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায়।

ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিলয়ের স্ত্রী আশা মনি অজ্ঞাতপরিচয় চারজনকে আসামি করে খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

এই মামলায় ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে শেখ আব্দুল্লাহ, খায়রুল ইসলাম, সাকিব ওরফে সাদ্দাম, আরাফাত হোসেন ও মোজাম্মেল হোসেন কারাগারে আছেন। আর কাউসার হোসেন, সাদ আল নাহিন, আরিফুল আযম, মাসুদ রানা, মর্তুজা সাব্বির, মাওলানা মুফতি আবদুল গফুর ও কামাল হোসেন উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *