জনবন্ধু লোকমান হোসেনের শাহাদাৎ বার্ষিকী আজ নরসিংদীতে ব্যাপক কর্মসূচি

সারাবাংলা

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি:
নরসিংদীতে জনবন্ধু ও সাবেক মেয়র লোকমান হোসেনের নবম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নরসিংদী পৌরসভা সভাকক্ষে সাবেক মেয়র লোকমান হোসেনের নবম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে প্রতি বছরে মতো প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। নরসিংদী পৌর মানবিক মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব কামরুজ্জামান কামরুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নরসিংদী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল মতিন ভূইয়া। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনায় ছিলেন নরসিংদী শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আমজাদ হোসেন বাচ্চু।
অন্য বছরের মতো এবারও কয়েক হাজার পুরুষ-নারীর সমাগম ঘটাতে আজ ১ নভেম্বর সকাল ৭টা থেকে সারা দিনসহ মাসব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে প্রতি বছরের ন্যায় নরসিংদী জেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ সহ বিভিন্ন সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে নরসিংদী আওয়ামী লীগ অফিস সহ শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে শাহাদাৎ বার্ষিকী সফল করতে পোস্টার, বিলবোর্ড, বিভিন্ন রাস্তায় তোরন নির্মাণ করে মরহুমের পৌর স্মৃতি সৌধ সমাধিতে পুস্পঅর্পন করা হবে। অপর দিকে শোক র‌্যালি, স্বরণসভা, মিলাদ মাহফিল, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ, মাস্ক বিতরণ, গণভোজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, কোরআন তেলওয়াত এবং হিন্দু মন্দিরগুলোতে দোয়া প্রার্থনার প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। নরসিংদীর পৌর এলাকার ৭১টি স্পট সহ মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে ১৪ নভেম্বর বিকালে নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে শহীদ লোকমান স্বরণে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিল্পমন্ত্রী অ্যাড. নুরুল মজিদ হুমায়ুন এমপি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক পীরজাদা কাজী মোহাম্মদ আলী, নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, নরসিংদী জেলা আওয়ামী যুবলীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান শামীম নেওয়াজ, নরসিংদী জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব ইকরামুল ইসলাম, নরসিংদী শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শ্যামল সাহা, নরসিংদী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি দিপু মাহমুদ, জেলা শ্রমিকলীগের আহ্বায়ক আব্দুল কালাম আজাদ ও সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম ভুইয়া, ট্রাক চালক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম, নরসিংদী জেলা মহিলা লীগের সভাপতি সুমি সরকার (ফাতেমা) ও যুগ্ম সম্পাদক বিলকিস বেগম, জেলা মহিলা লীগ নেত্রী ফারহানা সরকার সোমা, নরসিংদী জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আল-আমিন সরকার ও অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মো. রাজীব হোসেন, নরসিংদী শহর আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি: সোহেল ভূঁইয়া। আরও উপস্থিত থাকবেন নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসিবুল হাসান মিন্টু ও সাবেক সভাপতি ইসহাক খলিল বাবু, সদর থানা ছাত্রলীগ সভাপতি সারোয়ার হোসেন ফয়সাল ও সাধারণ সম্পাদক শেখ শামীম, নরসিংদী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শিব্বির আহমেদ শিবলী ও সাধারণ সম্পাদক রাব্বীর হোসেন অতুল, নরসিংদী শহর ছাত্রলীগের সভাপতি রাজীব সরকার ও সাধারণ সম্পাদক কাউসার আহমেদ, নরসিংদীর জেলা ছাত্রলীগ নেতা জিকু সাহা, নরসিংদী সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ রাছেল মাহমুদ, নরসিংদী শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পারভেজ ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, নরসিংদী বাজার ফল ব্যবসায়ী মো. রোবেল মিয়া।
জানা যায়, নয় বছরেও শেষ হয়নি জাতীয় স্বর্ণপদপ্রাপ্ত নরসিংদীর পৌর মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনবন্ধু শহীদ লোকমান হত্যার বিচার কাজ এখনো শেষ হয়নি। উচ্চ আদালতে থমকে আছে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাটি। দীর্ঘদিনেও বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন লোকমান হোসেন এর স্ত্রী তামান্না নুসরাত বুবলী-এমপি সহ পরিবার তার অসংখ্য বক্তরা। স্ত্রী তামান্না নুসরাত বুবলী এমপি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দ্রুত স্বামী হত্যার বিচার প্রার্থনা করেন। গত ২০১১ সালের ১ নভেম্বর নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করেন লোকমান হোসেনকে। তিনি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পলাশতলী ইউনিয়নের মেঝেরকান্দি গ্রামের পলাশতলী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ ভূঁইয়ার ছেলে লোকমান হোসেন কলেজ জীবন থেকেই জড়িয়ে পড়েন ছাত্র রাজনীতিতে। পরে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন ২০০৪ সালে প্রথমবারের মতো নরসিংদী পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে মেয়র নির্বাচিত হন লোকমান হোসেন। জনপ্রিয়তার কারণে ২০১১ সালের পৌর নির্বাচনেও বিপুল ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয় বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। সে সময় তিনি নরসিংদী পৌরসভার রাস্তাঘাট প্রশস্ত করণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের কারণে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। তিনি জাতীয় স্বর্নপদপ্রাপ্ত হিসেবে আরো জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। দ্বিতীয়বার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার মাত্র ৮ মাসের মাথায় ২০১১ সালের ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে তাকে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *