জলবন্দি বরমী দুর্ভোগে ৫০ পরিবার

সারাবাংলা

সোহেল রানা, শ্রীপুর থেকে
গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় বরমী ইউনিয়নের ৭নং পাঠানটেক ও ১নং কোষাদিয়া গ্রামের ৫টি পরিবার জলবন্দি রয়েছেন ২ বছর ধরে। বরমীর পাঠানটেক ও কোষাদিয়া গ্রামে বরমী-ঘোলাঘাট সংযোগ সড়কের উপর এলজিইডির নির্মাণাধীন পুলটি বন্ধ করে দিয়েছে কোষাদিয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসি শহিদুল্লার স্ত্রী বিলকিস আক্তার। এতে দুই গ্রামের প্রায় ৫০টি পরিবার জলবন্দি হয়ে জীবনযাপন করছেন। সামান্য বৃষ্টি হলেই বসতবাড়িতে জল প্রবেশ করে এবং রান্নাঘর, শৌচাগার জলের নিচে তলিয়ে গেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় ৭নং পাঠানটেক গ্রামের আব্দুল খালেক পাঠানের সঙ্গে। তিনি জানান, বৃষ্টি হলেই জল প্রবেশ করে বসতঘরে। জল প্রবেশ করায় বসবাসের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। তাছাড়া ৪টি বসতঘর জলে ভেঙে গেছে। এতে প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
পাঠানটেক গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে জাহাঙ্গীর পাঠান বলেন, বৃষ্টি হলেই জল বাড়ে। বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গৃহে প্রবেশ করে। এতে গৃহে বসবাস করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দুই গ্রামের প্রায় ৩ হাজার লোকের বসবাস। জল যাওয়ার কোন নর্দমা ব্যবস্থা না থাকায় বাড়ির সামনে নীচু জমিতে জমে। বৃষ্টি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গৃহে প্রবেশ করে। একমাত্র পুলটিও বন্ধ থাকায় এখন জল যাওয়ার সুযোগ নেই। তাই দুই গ্রামের ৫০টি পরিবার জলবন্দি হয়ে জীবন-যাপন করছে। বর্তমানে রান্নাঘর ও শৌচাগার জলের নিচে থাকায় তারা চরম কষ্টের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছেন।
অপরদিকে ১নং কোষাদিয়া গ্রামের শাজাহানের স্ত্রী নিলুফা বলেন, জল যাওয়ার কোন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরে প্রবেশ করে। বর্তমানে শৌচাগার ও রান্নাঘর সহ বেশ কয়েকটি ঘরে জল প্রবেশ করেছে। সাপের উপদ্রপ বেড়েই চলছে। একই গ্রামের আবুল হাসেম ও রফিকুল ইসলাম বলেন প্রায় ২ বছর ধরে এ সমস্যায় ভুগছি । কোনো জনপ্রতিনিধি সংবাদ পেয়েও কখনো সমাধান করতে আসেনি। বর্ষাকালে প্রতি বছর এ সমস্যার সৃষ্টি হয়।
কোষাদিয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী শহিদুল্লার স্ত্রী বিলকিস আক্তার বলেন, আমরা জমি কিনে বাড়ি করেছি। তাদের একাধিকবার ডাকা হলেও সমাধানের জন্য ভুক্তভোগীরা কেউ এগিয়ে আসেনি।
বরমী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাদল সরকার বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে আমি ঘটনাস্থল পরিদশর্ন করেছি। আগামী দুই দিনের মধ্য এর সঠিক সমাধান করবো।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *