বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে করা একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস। ওই মন্তব্যকে ‘নারীবিদ্বেষী ও অবমাননাকর’ আখ্যা দিয়ে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঝাড়ু মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
জামায়াতের পক্ষ থেকে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবি করা হলেও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ কমেনি। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হওয়া প্রতিবাদী মিছিলে কয়েকশ শিক্ষার্থী অংশ নেন। হাতে ঝাড়ু নিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রতীকীভাবে নারীবিদ্বেষী মনোভাবকে সমাজ থেকে ঝেটিয়ে বিদায় করার অঙ্গীকার করেন।
শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডগুলোতে “নারী শক্তির জয় হোক”, “কর্মজীবী নারীদের অপমান নয়, সম্মান চাই”, এবং “No More Silence, Zero Tolerance for Harassment” এর মতো স্লোগান দেখা যায়। মেগাফোনে “নারী অপমান মেনে নেব না”, “সম্মান চাই, অধিকার চাই” স্লোগানে মুখরিত হয় পুরো ক্যাম্পাস।
প্রতিবাদ সমাবেশে চবি শিক্ষার্থী মিফতাহ জাহান মীম বলেন, “নারীর মূল দায়িত্ব কেবল পরিবারকেন্দ্রিক—এমন রক্ষণশীল মত এখনকার সমাজ ও ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার সাথে সাংঘর্ষিক। পবিত্র কোরআনের সূরা নিসার ৩২ নম্বর আয়াতে নারী ও পুরুষ উভয়ের উপার্জনের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ইনসাফ কায়েমের নামে কর্মজীবী নারীদের অধিকার অস্বীকার করা যায় না।” তিনি আরও যোগ করেন, নারী শক্তির জয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই লড়াই চলবে।
বিতর্কিত এই পোস্টের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছিল। ওই পোস্টটি দলের আনুষ্ঠানিক বা ব্যক্তিগত অবস্থান নয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি) সাইবার ক্রাইম ইউনিট বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলেও দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
তবে হ্যাকিংয়ের এই দাবি সত্ত্বেও ঢাকা, রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগরসহ দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা ডা. শফিকুর রহমানের কাছ থেকে বিষয়টির স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছেন।
চবি শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা এবং সামাজিক মর্যাদা রক্ষার দাবিতে তাদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।