জামালগঞ্জে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা-পাষণ্ড ঘাতক স্বামী আটক

সারাবাংলা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় পারিবারিক অস্বচ্ছলতা ও দাম্পত্য জীবনে কলহের জেরে সামিয়া বেগম নামের এক গৃহবধূকে গলা কেটে জবাই করে হত্যা করেছে পাষণ্ড স্বামী। শনিবার ভোর রাতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। ঘাতক স্বামীর নাম মো. জালাল উদ্দিন। এলাকাবাসী তাকে আটক করে জামালগঞ্জ থানা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মার্চ মাসে জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের ক্ষেতি মামুদপুর গ্রামের প্রবাসী গোলাম জিলানীর মেয়ে সামিরা বেগমকে বিয়ে করে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইচ্চারচর গ্রামের আব্দুস সোবানের ছেলে জালাল উদ্দিন। মেয়ের বাবা প্রবাসী হওয়ায় যৌতুকের জন্য প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করে আসত যৌতুক লোভী স্বামী। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য জীবনে প্রায় সময়ই ঝগড়া বিবাদ আর কলহ লেগেইে থাকত। প্রায় এক মাস আগে স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে বাবার বাড়ি চলে যান সামিয়া।
শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি শ্বশুর বাড়িতে স্ত্রীকে আনতে যান ঘাতক জালাল। স্ত্রীর স্বজনরা জালালের বাবা ও মা ছাড়া তাদের মেয়েকে স্বামীর হাতে তুলে দেবেন না বলে জানালে ক্ষুব্ধ হয় জালাল। রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে সে শনিবার ভোররাতে ঘুমন্ত স্ত্রীর উপর ধারালো দা নিয়ে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করে। ভোরে সামিয়ার ছটফটানি শুনে বাড়ির আশপাশের লোকজন দেখেন তাদের মেয়েকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছে জালাল। তারা পিছন দিক থেকে ধাওয়া করলে সে পার্শবর্তী হাওরের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় হাওরে মাছ ধরায় নিয়োজিত জেলেরা ঘাতক জালাল উদ্দিনকে আটক করেন। পরে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে জালাল উদ্দিনকে থানায় নিয়ে যান।
নিহত সামিয়ার দুলাভাই নিজাম উদ্দিন বলেন, বিয়ের পর থেকেই জালাল সামিয়াকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করতো। তার নির্যাতন সইতে না পেরে গত মাসে বাবার বাড়ি চলে আসে সামিয়া। এখানে এসে শনিবার ভোররাতে তাকে জবাই করে হত্যা করেছে ঘাতক জালাল। আমরা তার ফাঁসি চাই।
এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘাতককে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *