জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলা মূর্খতার শামিল : তাজুল ইসলাম

জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক বলা চরম মূর্খতার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাকরাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ভবনে নবনির্মিত মুজিব কর্নারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ছাড়া স্বাধীনতার ঘোষক অন্য কেউ হতে পারে না, হওয়ার কোনো সুযোগও নেই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষক হওয়ার জন্য জনগণ কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন এবং তার ডাকে সাড়া দিয়েই বাঙালি জাতি দেশকে স্বাধীন করে বিশ্বমানচিত্রে সার্বভৌম দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি আরও বলেন, রেডিও-টেলিভিশনে ঘোষণা দিলেই ঘোষক হওয়া যায় না। জিয়াউর রহমানকে যারা ঘোষক বলতে চান তাদের মূর্খতার একটি মাত্রা থাকা উচিত। এরকম কথাবার্তা মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এ প্রসঙ্গে মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ২৭ মার্চ বেতারে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছেন। তিনি যদি ঘোষক হতেন তাহলে ২৭ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পালন করা হতো। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার উদ্দেশ্যেই স্বাধীনতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধবিরোধী দোসররা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে উল্লেখ করে থাকে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে যারা ক্ষমতা দখল করেছেন, তারা জাতি ও দেশের জন্য কি করেছেন সেটা সকলের জানা আছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশে খুন, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য, সামাজিক মূল্যবোধ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা সবকিছু তছনছ করে দিয়ে উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত ছাড়া তারা আর কিছু করতে পারেননি তারা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন। রেডিও-টেলিভিশনে বঙ্গবন্ধুর কথা না বলার ব্যবস্থা করছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চের ইতিহাস বিকৃত করে বিতর্কিত কথাবার্তা বলেছেন। স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীদের মন্ত্রী বানানো হয়েছে, সংসদ এবং বিদেশের মিশনসহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন পদে পদায়ন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এতে স্বাগত বক্তৃতা করেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইফুর রহমান। এসময়, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *