জীবদ্দশায় মুক্তিবার্তায় নাম দেখতে চান

সারাবাংলা

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি মুক্তিযোদ্ধা আঃ খালেকের আকুতি
এম এ আজিজ, ময়মনসিংহ অফিস :
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আঃ খালেকের বয়স প্রায় ৬৬। মুক্তিবার্তা অনুসারে লালবার্তা বা লাল বইয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তালিকাভুক্তি হয়নি আজও। লাল তালিকায় তার নাম লিপিবদ্ধ করতে মুক্তিযোদ্ধা আঃ খালেক ঢাকা, ত্রিশাল এবং ময়মনসিংহের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গুলোতে ঘুরেই চলেছেন দুই দশক ধরে। এই বৃদ্ধ বয়সেও তাকে সবাই আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন ভুলবশত নাকি মুক্তি বার্তায় নামটি বাদ পড়ে গেছে। বার বার যাচাই-বাছাইয়ের অজুহাতে হয়রানি বেড়েই চলছে।
ময়মনসিংহ নগরীর কালিবাড়ি রোডে বসবাসরত মৃত আঃ মজিদের ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক। তার স্থায়ী ঠিকানা ত্রিশালে হলেও বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ নগরীতেই বসবাস করছেন। তার সবুজ মুক্তি বার্তা নং-০১১৫০৫০৩৬৩। মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল থেকে প্রধানমন্ত্রী প্রতি স্বাক্ষরিত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা ও মুক্তিযোদ্ধার তথ্য সম্বলিত সনদ দেওয়া হয় ২০০০ সালের ২৫ জুলাই। যেখানে তার বই নং এবং ক্রমিক নং ৭,২৩৮, সনদ নম্বর হল ৩০৮৭৬। মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় সাময়িক সনদ দেন ২১ ডিসেম্বর ২০০৫ সালে। যার ক্রমিক নম্বর ৩০৮৬ এবং সনদ নম্বর ১০৭৫৯৯। এছাড়া ২০০৫ সালের ১৪ মে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বেসামরিক গেজেট পৃষ্ঠা নং২৯২৩ এবং গেজেট নম্বর ১৩৯৭ তালিকাভুক্তি হয়েছে। মুক্তিবার্তা লাল বই তার নাম লিপিবদ্ধ করতে ২০০১ সাল থেকে বার বার আবেদন করেন। এবং সর্বশেষ ৩১ জানুয়ারি ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবেদন করেন। কিন্তু তার মতে, মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় সংসদ বলছে হয়তো টাইপিং এ হয়তো ভুল হয়েছে, তাই তার নাম লিপিবদ্ধ হয়নি।
মুক্তিযোদ্ধা আঃ খালেক জানান, ভারতের তুরা থেকে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ শেষে প্রথমে সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু তাহের এর অধীনে যুদ্ধে অংশ নেন। পরবর্তীতে কর্নেল তাহের আহত হলে সেক্টর কমান্ডার হামিদুলার অধীনে থেকে যুদ্ধ করেন। তার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, প্রথম আপারেশন করেন নাজিরপুরে। পরবর্তীতে নেত্রকোনার ঠাকুরকোনা রেলওয়ে সেতু, হীরনপুর রেলওয়ে সেতু উড়িয়ে দেন এবং নাজিরপুর পূর্বধলাসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিভিন্ন স্থানে প্রত্যেকটি যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সনদ মন্ত্রণালয় স্থগিত করেছে। মন্ত্রণালয় এ মুক্তিযোদ্ধাদের তার মতে, গুরুত্বহীন করে রেখেছে। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণলালয়ের সনদ বর্তমানে অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে না। মুক্তি বার্তা নং ০১১৫০৫০৩৬৩ এবং পৃষ্ঠা নং ২৮ নন্বরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আঃ খালেকের নাম থাকার পরও এবং আজও মুক্তি বার্তার লাল বইয়ে কেন প্রকাশিত হলো না এটা প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি প্রত্যাশা করছেন মৃত্যুর আগে যেন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তার নামটি লাল বইয়ে দেখে যেতে পারেন। অন্যথায় মহান মুক্তিযুদ্ধে তার ত্যাগ এবং অবদান আগামী প্রজন্ম দেখতে পারবে না। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর কণ্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে তিনি এ আকুতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বয়সের ভারে এসে আমি আর হাঁটতে পারি না, কোথাও যেতে পারি না। জীবন সায়াহেৃ এসে দাঁড়িয়েছি। বহুবার যাচাই-বাছাই হয়েছে। কাগজপত্র যখন যা লেগেছে সব দিয়েছি। কিন্তু এখনও নাকি যাচাই-বাছাই হচ্ছে। আমি চাই জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) এবং মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় স্থানীয়ভাবে আমার যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করুন। এখন থেকে কোন যাচাই-বাছাই হলে যেন আমার গ্রাম ত্রিশালের ইছামতিতেই করা হয়। গ্রামবাসী স্বাক্ষী দেবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *