জীবনসঙ্গী খুঁজতে নৃত্য

সারাবাংলা

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জে মনিপুরী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘থাবল চোংবা’ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার রাত ৮ টা থেকে উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের নয়াপত্তন গ্রামে উন্মুক্ত মঞ্চে এ উৎসব শুরু হয়। এতে দলবেঁধে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নৃত্য করতে করতে নানা বয়সী অবিবাহিত প্রায় ৩ শতাধিক যুবক-যুবতী নিজেদের মধ্যে ভাব বিনিময় করে জীবনসঙ্গী খুঁজে নেয়। মঞ্চের মধ্যখানের গোল বৃত্তে বসা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দুই শিল্পী মাঙাল লৈমা ও সম্বু রতন থাবল চোংবা অনুষ্ঠানের গান পরিবেশন করেন। আলাপকালে আয়োজকরা বলেন, এ উৎসবে মনিপুরী সম্প্রদায়ের অবিবাহিত যুবক-যুবতীরা বিশেষ ধর্মীয় গানের সঙ্গে নৃত্যের তালে তালে খুঁজতে থাকে তাদের জীবনসঙ্গীকে। সুনিপুন এমন নৃত্য মনমুগ্ধ করে তোলে নানা বয়সী মানুষকে। সন্ধ্যা রাতে ধর্মীয় গানের সুর শুনে মনের টানে মাঠে ছুটে আসেন মনিপুরী যুবক-যুবতী, কিশোর-কিশোরীসহ নানা বয়সের লোকজন। সবাই জড়ো হলেই শুরু হয় মূল আর্কষণ থাবল চোংবা উৎসবের নৃত্য। মনিপুরী ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইবুংহাল শ্যামল বলেন, আমাদের নয়াপত্তন গ্রামে উন্মুক্ত মাঠে মঞ্চ করে প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও আয়োজন করা হয়েছে থাবল চোংবা অনুষ্ঠান। বৃত্তাকার মঞ্চে প্রথমে নৃত্য করে এ গ্রামের অবিবাহিত যুবতীরা। এরপর নৃত্য করতে প্রবেশ করে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মনিপুরী যুবকরা। পূর্ণিমার চাঁদের সঙ্গে মিল রেখে দোল পূর্ণিমার রাতে থাবল চোংবা নামের মিলন মেলায় প্রায় ৩ শতাধিক যুবক-যুবতি এক সঙ্গে নৃত্য করে। নৃত্যে অংশগ্রহনকারী অবিবাহিত যুবতী এল সূচনা চনু, মনিকা চনু, ঐশী হামোম, নোংমাইথেম মেমতম্বী বলেন, রোমাঞ্চকর এ অনুষ্ঠানে কাঙ্খিত ধর্মীয় উৎসবে যোগ দিতে পেরে তারা আনন্দিত। অপরদিকে অভিভাবক সনাতন হামোং ও থোঙাম প্রহল্লাদ বলেন, ঈশ্বরের সন্তুষ্টি পেতে একইভাবে যুবক-যুবতীরা আসেন তাদের আয়োজনের এ মিলন মেলায়। সেই সঙ্গে বিভিন্ন স্থান থেকে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে আসেন অনেক দর্শনার্থীরা।
এ বিষয়ে মনিপুরী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় গুরুরা জানান, যুবক-যুবতীরা তাদের জীবন সঙ্গীকে খোঁজার জন্যই মূলত থাবল চোংবা অনুষ্ঠানের আয়োজন যুগযুগ ধরে চলে আসছে। নিজ এলাকায় আয়োজনস্থলে অভিবাবকরা তাদের যুবতী কন্যাকে নিয়ে যান। অন্যদিকে নিজ এলাকা ব্যাতিত বিভিন্ন স্থান থেকে যুবকরা আসে পছন্দের জীবনসঙ্গীকে বেছে নিতে। একে অপরের হাতধরে নৃত্যের ফাঁকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে কথোপকথন ও ভাব বিনিময়। আয়োজকরা বলেন, মনিপুরী সম্প্রদায়ের এ উৎসবের আমেজ চলবে ১৫ দিনব্যাপী।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *