জেনে নিন তামার গ্লাসে পানি পানের উপকারিতা

লাইফ স্টাইল

লাইফ স্টাইল ডেস্ক: অধিকাংশ বাড়িতেই পানি রাখা হয় প্লাস্টিকের বোতলে। এমনকি অফিসে, কলেজে বা ঘুরতে যাওয়ার সময়ে পানি পান করার জন্য ব্যাগে ভরে নেওয়া হয় প্লাস্টিকের বোতলে পানি। অনেকে আবার কোল্ড ড্রিঙ্কের বোতল ধুয়ে তাতে পানি ভরে মাসের পর মাস দিব্যি খেয়ে যান। কখনও ভেবে দেখেছেন, তা আদৌ স্বাস্থ্যসম্মত কি না।

প্লাস্টিকের বোতলে পানিপান স্বাস্থ্যকর নয়! একটি প্লাস্টিক বোতলে কতদিন পানিপান করা যাবে তা নির্ভর করে এটি ফুডগ্রেড প্লাস্টিকের তৈরি কি-না তার উপর।

প্লাস্টিকের বোতলে থাকা বিসফেনল শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করে। অনেকে আবার মেটালের বোতলে জল পান করেন। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মেটালের বোতলেও বিসফনেল থাকে। প্লাস্টিকের কারণে পরিবেশদূষণ এড়াতেই বোতল পালটে ফেলা দরকার। তাছাড়া সব রকমের প্লাস্টিকে পানি খাওয়াও ঠিক নয়।

বিশেষ করে বাজারচলতি ঠান্ডা পানীয়ের বা পানির বোতল কিন্তু একবার ব্যবহারযোগ্য। সেগুলির পুনর্ব্যবহার কখনও নয়। প্লাস্টিকের বোতলের জায়গায় স্টিলের পাত্র, কাচের জার, তামার পাত্র, সিরামিকের পাত্রে পানি রাখা নিরাপদ। দেখে নিন কোন পাত্রে পানি রাখার সুবিধা কতটুকু এবং সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি কোন পাত্রে।

স্টিলের পাত্র: স্টিলের পাত্রে পানি রাখতে পারেন। আগে বেশির ভাগ বাড়িতেই কিন্তু স্টিলের জগ ব্যবহার করা হত। সেই ব্যবস্থাই অনায়াসে ফিরিয়ে আনা যায়। জগ থেকে গ্লাসে ঢেলে পানি পান করার অভ্যেস নতুন করে শুরু করা যায়। তাছাড়া এতে পানি পান করার সময়ে বায়ুও প্রবেশ করবে না।

ফলে যাদের গ্যাসের সমস্যা রয়েছে, তাদের কিছুটা হলেও সুরাহা হবে। স্টিলের জিনিসের যত্নও সহজ। গবেষণায় দেখা গিয়েছে স্টিলের বোতল বা গ্লাসে আয়রন, ক্রোমিয়াম, নিকেল থাকে যা পানির মিনারেলের সঙ্গে মিশে যায়।

কাচ বা সিরামিকের জার: একান্তই বোতলে পানি পান করার অভ্যেস হয়ে গেলে কাচের বোতল কিনে রাখতে পারেন। এখন অনেক রকমের ডিজাইন করা সুন্দর কাচের বা সিরামিকের বোতল কিনতে পাওয়া যায়। সস, স্কোয়াশ জাতীয় অনেক কিছুই কাচের বোতলে কেনা হয়। সেগুলো না ফেলে, ধুয়ে তাতেই পানি রাখা যেতে পারে। স্টিলের জগ পছন্দ না হলে শৌখিন কাচের জগ রাখুন, তা আপনার অন্দরের শোভাও বাড়াবে।

তবে কাচের জিনিস পড়ে ভেঙে যাওয়ার ভয় থাকে। তাই কাচের বোতল নিয়ে যাতায়াত না করে এর ব্যবহার বাড়িতে করাই শ্রেয়। এছাড়া কাচের বোতল, গ্লাস বা সিরামিকের জারে কিন্তু পানি ভরে পান করার জন্য সেরা পছন্দ। শুধু একটু বেশি সাবধানতার প্রয়োজন। এতেই লুকিয়ে রয়েছে সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি।

তামার পাত্র: মানুষ পানি পান করার জন্য নানা ধরনের পাত্র বা গ্লাস ব্যবহার করেন। কিন্তু আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে তামার তৈরি পাত্র বা গ্লাসে পানি পান করার সময় ব্যবহার করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। শুনে মনে হবে পানি পান করতে গেলে আমরা কাঁচের বা স্টিলের গ্লাস বা পাত্রও ব্যবহার করলেই হয়।

এরজন্য আবার তামার কেন? আয়ুর্বেদে শাস্ত্রে লেখা আছে তামার পাত্রে পানি খেলে মানুষের শরীরে বাত, সর্দি বৃদ্ধি করতে দায় না। শরীরের সামঞ্জস্য বজায় রাখে। আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, রাত্রিবেলায় তামার জগ বা গ্লাসে পানি ঢেকে রেখে দিন। সকালবেলায় খালি পেটে সেই পানি খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। তামার পাত্র ও বোতল এখন বেশ ইন।

তবে দামটা বেশি। তামা নিজেই পানি শুদ্ধ করতে সহায়ক হওয়ায়, তামার পাত্রের ব্যবহার বহু যুগ ধরে চলে আসছে। তবে এর বিরুদ্ধ মতও আছে। অনেকের মতে, অতিরিক্ত তামা শরীরে সঞ্চয় হলে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা হতে পারে। তামার পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। প্রত্যেক দিন তামার পাত্রে পানি বদলানো দরকার।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *