জোয়ারের জলে দিনে দুইবার তলিয়ে যাচ্ছে

সারাবাংলা

এম. পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ থেকে:
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার সরকারি খাদ্যগুদাম পূর্নিমার অতিরিক্ত জোয়ারের জলে দিনে দুইবার তলিয়ে যাচ্ছে। নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত এ খাদ্যগুদামটি। এক কিলোমিটার স্থায়ী বেড়িবাঁধ, যোগাযোগের রাস্তা, খালের পলি মাটি পুনরায় খননের দাবি ভুক্তভোগীদের। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ৮০ দশকের পানগুছি নদীর তীরবর্তী সানকিভাঙ্গা এলাকায় গড়ে ওঠে উপজেলার খাদ্যগুদাম। এ গুদামটি নির্মিত হওয়ার দীর্ঘদিন পর হলেও গত বছরে একবার সংস্কার হয়েছে। গোটা খাদ্যগুদাম এলাকা হয়েছে বাউন্ডারি জাহাজ থেকে মালামাল ওঠানামার ঘাট। গতকাল রোববার বেলা ১১টায় খাদ্যগুদাম চত্ত্বরে গিয়ে দেখা গেছে অতিরিক্ত জোয়ারের জলে একাকার হয়ে পড়েছে। শ্রমিকরা বসে আছে মালামাল উত্তোলন ও বন্টন করতে পারছেন না। খাদ্যগুদামে প্রবেশের মূল ফটকের যেতে নেই কোনো রাস্তা। মূল সড়ক থেকে ৩শ গজ দূরত্বে গুদামের মূল ফটক। কাদাজল ভেঙে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে সরকারি বরাদ্ধ চাল নিতে আসা লোকজনকে পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। পানগুছি নদীর মোহনা গুদাম সংলগ্ন বিষখালী খাল। পলি পরে মাটির স্থরে ভরাট হয়ে গেছে খালটি। খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে একবার কোনোমতে মাটি কাটলেও পুনরায় তা আবার ভরাট হয়ে পড়েছে। জাহাজে আসা চাল লোড-আনলোড করতে হয় জোয়ারের ওপর নির্ভর করে। চাল তুলতে গিয়ে ইতোপূর্বে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে চাল ভর্তি অনেক জাহাজ। এ খালের নব্যতা কাটাতে ১ কিলোমিটার এ বিষখালী খালটি পুনরায় খনন হলে এ সমস্যা সমাধান হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ১৬টি ইউনিয়ন সহ একটি পৌরসভার জনগুরুত্বপূর্ণ উপজেলার এই খাদ্যগুদামটি নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়ে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হলেও হয়নি কোনো সমস্যার সমাধান বলে জানিয়েছেন কর্মরত শ্রমিক আলফাত শেখ, হান্নান মুন্সি, রাজু শেখ, রফিক শেখ, হারুন শেখ, দুলাল খানসহ একাধিক শ্রমিক।
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, খাদ্যগুদামে অতিরিক্ত জল প্রবেশের বিষয়টি ইতোপূর্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ১ কিলোমিটার স্থায়ী বেড়িবাঁধ বিষখালী খাল পুনরায় খনন ও ৩শ গজের একটি যোগাযোগের রাস্তা নির্মাণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন এ কর্মকর্তা। এ সম্পর্কে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, উপজেলা খাদ্যগুদামের সমস্যার বিষয়গুলো সম্পর্কে জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্ধ পেলে এ সমস্যাগুলোর সমাধান দ্রুত করা হবে বলে জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *