জয়পুরহাটে নিরাপত্তাহীনতায় প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতার ভাই

সারাবাংলা

জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেজর (অবঃ) লিয়াকত হোসেনের মা নাজমা হোসেনের বিরুদ্ধে হয়রানীর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভাই খন্দকার হাফিজুল আলম।  মঙ্গলবার দুপুরে জয়পুরহাট জেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত অভিযোগ করেন। এসময় হাফিজুলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেনÑ তার স্ত্রী শাারমিন আখতার, ছোট ছেলে খন্দকার আতিকুল আলম, জয়পুরহাট জেলা শহরের শান্তিনগর এলাকার তার প্রতিবেশী মোফাজ্জল হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি বর্গ। হাফিজুল তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, তিনি জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পূর্ব সরাইল গ্রামের মৃত খন্দকার আলমগীর হোসেনের ছেলে এবং কালই পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামীলীগের নেতা প্রয়াত হালিমুল আলম জন এর ছোট ভাই। বর্তমানে তিনি জয়পুরহাট পৌরসভার শান্তিনগর এলাকায় বসবাস করছেন। বড় ভাই কালাই পৌরসভার সাবেক মেয়র হালিমুল আলম জন নিঃসন্তান অবস্থায় স্থাবর-অস্থাবর প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পদ ও ২৪/২৫ লাখ টাকা ঋন রেখে দীর্ঘ দিন অসুস্থ থেকে গত ৫ ফেব্রুয়ারী মারা যান। ঋন পরিশোধের পর আরো প্রায় ১ কোটি ৩০/৩২ লাখ টাকার সম্পদ অবশিষ্ট থাকে, এর মধ্যে গ্রামের বাড়িতে প্রয়াত বড় ভাইয়ের ১০ শতক জমি ছাড়াও তার আরো ১০ শতক জমির উপরে পাকা বাড়ি ও বাগান বাড়ি রয়েছে। তিনি বলেন, আমার নিঃসন্তান বড় ভাই মারা যাবার পর আইন অনুযায়ী বড় ভাইয়ের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার স্ত্রীর ৪ আনা, আমার এক বোন নাজমা হোসেন ৪ আনা ও আমি ৮ আনা অংশের হকদার। সে হিসেবে আমি আমার ভাইয়ের প্রাপ্ত অংশের সম্পত্তিসহ নিজ সম্পত্তিতে ভোগ দখলে থাকি। এ অবস্থায় আমাদের দুই ভাইয়ের সম্পত্তি জবর দখল করার জন্য আমার বোন প্রভাব ও প্রতিপত্তিশালী নাজমা হোসেন (স্বামী- মৃত সাকোয়াৎ হোসেন, ১৬/১০ পল্লবী, রোড নং-০৫, মিরপুর-১২, ঢাকা) ঢাকা থেকে কলকাঠি নেরে ও অর্থ দিয়ে প্রভাবিত করে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের আমকে জোর করে আমাদের বাড়ি থেকে বের দিয়েছেন। এ ব্যাপারে পুলিশের সহায়তা চেয়েও পাইনি।
অভিযোগে হাফিজুল আরো জানান, পুলিশের সহায়তা না পেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পৈত্রিক ভিটামাটি রক্ষার জন্য আবারো তিনি নিজ বাড়িতে যান। এ সময় এক দিকে ওই বাড়িতে অবস্থান নেওয়া ভাড়াটে সন্তাসীদের প্রান নাশের হুমকি অন্যদিকে বাড়ি ছাড়ার জন্য বার বার থানা পুলিশ বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে গ্রেফতারের ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। এতে ভীত হয়ে তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে আসেন। এরপর তার বোন নাজমা হোসেনের আম মোক্তার নামা বলে একই গ্রামের ভাড়া করা কাজল (পরিবারের কেউ নান) বাদী হয়ে উল্টো হাফিজুলের বিরুদ্ধেই কালাই থানায় মামলা দেন।
এরপর বোন নাজমা হোসেন সরাইল গ্রামে আসলে স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান মিলনের পরামর্শে গত ৫আগষ্ট কালাই পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজউল ইসলামসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশী বৈঠকে মিমাংশার জন্য সদয় হতে তার বোনকে অনুরোধ করলেও যে কোন মূল্যে তার বোন সম্পদ দখল করবেন বলে সবাইকে জানান। শুধু তাই নয়, এরপর জয়পুরহাট শহরে এসে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসীরা হুমকি দিলে গত ২৪-১০-২০২০ তারিখে জয়পুরহাট সদর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করি (যার নম্বর ১৩৫০)। এর আগে বোন নাজমা তাকে হয়রানী করার জন্য আদালতেও একধিক মামলা করেছেন বলে জানান হাফিজুল।
বোন নাজমা হোসেন অত্যন্ত প্রভাবশালী উল্লেখ করে হাফিজুল বলেন, ‘আমার বোন নাজমা হোসেনের ঢাকায় অঢেল সম্পদ ছাড়াও তার এক ছেলে সরোয়ার হোসেন লন্ডন প্রভাসী, আরেক ছেলে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অবঃ) লিয়াকত হোসেন বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময়ে আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় ফাঁসীর দ্বন্ডপ্রাপ্ত আসামী হিসেবে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এ ছাড়া অন্যান্য মেয়ে ও জামাইরা অর্থ-বিত্তশালী হওয়ায় আমার বোন ধরাকে সরাজ্ঞান করছেন। আমার মত শোচনীয় অর্থাভাবে জর্জরিত এক নিরীহ মানুষের সামান্য সম্পদ টুকুও তার প্রভাব দিয়ে কুক্ষিতগত করতে চান। বোনের অর্থ-বিত্ত ও প্রভাবে সন্ত্রাসী, পুলিশ, এমনকি বর্তমানে আমার প্রয়াত প্রথম স্ত্রীর পক্ষের সন্তানটিও আমার বিরুদ্ধে গেছে। এ অবস্থায় তিনি বর্তমানে চরম ভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আইনী সহায়তা চেয়েছেন হাফিজুল আলম। নাজমা বেগম জানান, আমার ছেলে লিয়াকত তখন এনএসআই’য়ে কর্মকর্র্তা ছিল, তাই ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় ফেঁসে গেছে, তখন কি ঘটেছে তা দেশবাসী জানেন। আমার ছেলে এখন কাসিমপুর কারাগারে আছে, এতে আমার ভাইয়ের কি সমস্যা? এসব বলে আমার ভাই আমাকে আমার সম্পত্তি থেকে সরাতে পারবে না।
হাফিজুলে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কালাই থানার বর্তমান ওসি সেলিম মালিক ও বদলীকৃত ওসি (বর্তমানে জেলার আক্কেলপুর থানার ওসি) আব্দুল লতীফ খান জানান, হাফিজুল যে অভিযোগ করেছেন তার কোন ভিত্তি নেই, এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান আছে, পুলিশের কাছে এখনো কোন নির্দেশনা আসেনি, তাছাড়া আদালতের নির্দেশ ছাড়া জমিজামা সংক্রান্ত কোন বিষয়ে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে না।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *