জয়পুরহাটে ভারতীয় গরু সরবরাহ পশুর হাটে গাদাগাদি

সারাবাংলা

নেওয়াজ মোর্শেদ নোমান, জয়পুরহাট থেকে:
হঠাৎ করে ভারত সীমান্তবর্তী জেলা জয়পুরহাটে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশ কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটলেও সরকারের জারি করা স্বাস্থ্যবিধি কেউই মানছেন না পশুর হাটগুলোতে। জয়পুরহাট শহরের নতুন হাটের পশুর হাটকে বাইরে তিনটি স্থানে বসাতে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা রয়েছে। তবে না মেনেই শহরে একটি পশুরহাটেই চলছে কেনাবেচা। অবৈধভাবে ভারতীয় গরু সরবরাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সরেজমিন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে ভারতে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। ভারত সীমান্তের জয়পুরহাট জেলায় বড় দুইটি পশুর হাট বসে শহরের নতুনহাট ও পাঁচবিবি তিন মাথা এলাকায়। এই হাটগুলোতে কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ভারতীয় গরু সরবরাহ ও সেই সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। এ কারণে করোনা সংক্রমণও বেড়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগ এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টদের। ইতোমধ্যে গত কয়েকদিন শহরের নতুনহাটের আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকজন করোনায় মারা গেছেন। পাঁচবিবিতেও এমন মৃত্যু ঘটনা বেশ কয়েকটি। এর কারণ হিসেবে কিছুটা দায়ী করছেন এসব পশুর হাট ও ভারতীয় গরু সরবরাহকারীকে।
জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ১২১ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৮৬১ জন। করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের। এর মধ্যে চলতি জুন মাসেই মারা গেছেন ১২ জন।
পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শহীদ হোসেন বলেন, আমি সভার মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বলেছি এবং নির্দেশনা দিয়ে পশুর হাটে ভারতীয় গরু সরবরাহের কারণে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে। পশুর হাট বন্ধ রাখতে বলেছিলাম। ইতোমধ্যে কয়েকদিনেই জয়পুরহাট ও পাঁচবিবিতে বেশ কয়েকজনের করোনায় মৃত্যু হয়েছে। জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম হক্কানী বলেন, ভারতীয় গরু সরবরাহে যারা আনা নেওয়া করছেন, তাদের মাধ্যমে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার অবশ্যই আশঙ্কা আছে। পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুনিরুল শহীদ মুন্না বলেন, আমি জেলার সভায় বলেছি দেশে কোরবানির গরুর জন্য পর্যাপ্ত দেশি গরু আছে। কিন্তু অবৈধ চোরাইপথে ভারতীয় গরু হাটগুলোতে তোলার কারণে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।
শহরের নতুন হাট পশুর হাটের ইজারাদার রজনী ট্রেডার্স এর স্বত্বাধীকারী কালীচরণ আগরওয়ালাকে তিন ভাগে বিভক্ত করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট লাগানোর স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হয়নি এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, পরে কথা বলবো, বলে কল কেটে দেন। সিভিল সার্জন ডা. মো. ওয়াজেদ আলী বলেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে অবশ্যই করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাবে। পশুর হাটকে তিন স্তরে বিভক্ত করে লাগানোর কথা। কিন্তু সেটা না করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, সরকারের জারিকৃত স্বাস্থ্যবিধি মেনে তিনটি স্থানে হাট লাগানোর কথা বলা হয়েছে। তা কেউ না মানলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *