জয়পুরহাট : বিশ্বের ২৫টি দেশে রফতানি হচ্ছে ॥ নির্ধারিত হাট ও প্রসেসিং প্ল্যাল্টের দাবি

সারাবাংলা

নেওয়াজ মোর্শেদ নোমান, জয়পুরহাট থেকে:
বিশ^বাজারে এখন জয়পুরহাটের কচুর লতি। জেলার ব্রান্ডিং হয়ে দেশের চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে বিশ্বের প্রায় ২৫টি দেশে। দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্য ফসলের চেয়ে লতিরাজ কচু চাষে বেশি লাভজনক। এই কারণে কচু চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ব্যবসায়ীরা জানান, পাঁচবিবি পৌর বটতলী এলাকায় স্থানীয়দের ভাড়া জায়গার কচুর হাটে নানা সমস্যা নিয়ে চলছে তাদের প্রতিদিনের বেচাকেনা। এ লতিরাজ কচু দেশের বাইরে রফতানির জন্য প্রসেসিং প্ল্যান্ট নেই। সরকারিভাবে প্রসেসিং প্ল্যান্ট করার প্রস্তাব দিয়েছেন জেলা কৃষি বিভাগ। তবে কৃষক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা চান লতিরাজ কচুর উৎপত্তি পাঁচবিবি এলাকায়, তাই প্রসেসিং প্ল্যান্ট ও সরকারিভাবে নির্ধারিত হাট এ পাঁচবিবিতে গড়ে তোলা হোক। স্থানীয় ও জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এই পাঁচবিবি মাটি অত্যন্ত ভালো হওয়ার কারণে উন্নত মানের লতিরাজ কচু চাষ হয়। কচু অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সম্মত হওয়ার কারণে দেশে ও বিদেশে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। প্রায় ৩০ বছর আগে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বটতলী এলাকা ও আশাপাশের কিছু গ্রামের কৃষকরা সীমিত পরিসরে নিজেদের পরিবারের সবজি হিসেবে লতিরাজ কচু চাষ শুরু করেন। নিজের পরিবারের সবজির চাহিদা মিটিয়ে আশপাশের হাট-বাজারগুলোতে বিক্রি করছিলেন তারা। অন্য ফসলের চেয়ে লতিরাজ কচু চাষ করে বেশি লাভ হওয়ায় ঝুঁকে পড়েন। তারপরই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ শুরু হয়। এরপর ১৯৯৫ সালে পাঁচবিবির বটতলী এলাকায় স্থানীয়দের ভাড়া জায়গায় গড়ে তোলেন লতিরাজ কচুর হাট। ১৯৯৮ সালে কৃষিপণ্য রফতানিকারকদের নজরে আসে লতিরাজ কচু। এরপর লতিরাজ কচু কুয়েত, মালেয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, ইউরোপ-আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়া সহ বিশ্বের ২৫টি দেশে রফতানি হচ্ছে। ইতোমধ্যে লতিরাজ কচুকে জয়পুরহাট জেলার ব্রান্ডিংও করা হয়েছে। বর্তমানে পাঁচবিবির বটতলী কচুর হাটে প্রকারভেদে লতিরাজ কচু ৩০ থেকে ৫০ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে। জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ মৌসুমে জেলায় লতিরাজ কচু চাষ হয়েছে প্রায় ১২৫০ হেক্টর জমিতে ও ফলন হয়েছে ৩৫-৪০ হাজার টন। ৪০ শতাংশ লতিরাজ কচু বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হচ্ছে। পাঁচবিবি পৌরসভার মেয়র হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, এই লতিরাজ কচুর উৎপত্তি পাঁচবিবিতেই। এ কচু বেচাকেনার জন্য সরকারিভাবে নির্ধারিত কোনো হাট নেই। পৌর এলাকার বটতলীতে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে কচুর হাট গড়ে তুলেছেন। এখানকার কচু বিশ্বের ২৫টি দেশে রফতানি হচ্ছে। কিন্তু এখানে প্রসেসিং সেন্টার নেই। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রসেসিং করা হচ্ছে। সরকারিভাবে প্রসেসিং সেন্টার যেন পাঁচবিবিতে করা হয়। এতে এখানকার কর্মসংস্থান বাড়বে ও সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক স.ম মেফতাহুল বারি বলেন, এই পাঁচবিবি মাটি অত্যন্ত ভালো হওয়ার কারণে উন্নত মানের লতিরাজ কচু চাষ হয়। এই কচু অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সম্মত হওয়ার কারণে দেশে-বিদেশে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এখানকার উৎপাদিত ৪০ শতাংশ লতিরাজ কচু কুয়েত, মালেয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, ইউরোপ-আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়া সহ বিশ্বের ২৫টি দেশে রফতানি হচ্ছে। জেলা কৃষি বিভাগ থেকে জয়পুরহাটে একটি প্রসেসিং প্ল্যান্ট করার জন্য প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দফতরে দেওয়া হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *