টনক নড়বে কবে?

সম্পাদকীয়

দুর্ঘটনা যেন নিয়তির লিখন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়ক-রেল দুর্ঘটনায় প্রায় প্রতিদিনই প্রাণ ঝরছে। কখনো ভবন ধসে, কখনো আগুন লেগে, কখনো নৌযান ডুবিতে, কখনো নানা দৈব দুর্বিপাকে অকাতরে যায় প্রাণ। এবার রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে একটি নির্মাণাধীন ভবনের বেলকনি ধসে তিন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনা দেখিয়ে দিল এদেশে শ্রমিকের জীবন এখনো কতটা অনিরাপদ। এ ধরনের মৃত্যু কিছুতেই কাম্য হতে পারে না। ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে শ্রমিক নিরাপত্তায় আরো সতর্ক হতে হবে।

গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় ভবনটির বেলকনি ধসে তিন শ্রমিক চাপা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। বাকি দুইজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। ভবন নির্মাণের সময় শ্রমিকদের কাজের জন্য নিরাপত্তামূলক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কি না-এটি এক বড় প্রশ্ন। এ ধরনের মৃত্যু কিছুতেই কাম্য হতে পারে না। আরো দুঃখজনক হচ্ছে এ ধরনের দুর্ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে রাজধানীর মালিবাগে রেলগেট সংলগ্ন নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার পড়ে স্বপন নামে এক পথচারী নিহত হন। এছাড়া ২০১২ সালে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট জংশনে নির্মাণাধীন উড়ালসড়কের গার্ডার ভেঙে ১৩ জন নিহত হন। তখন নির্মাণ কাজে নিরাপত্তা নিয়ে অনেক কথা হয়েছিল। কিন্তু ফলাফল শূন্য।

এসব ঘটনায় দোষীদের কখনো শাস্তি হয় না। ফলে বার বার পুনরাবৃত্তি হতে থাকে মর্মান্তিক ঘটনার। কিন্তু এভাবে তো দিনের পর দিন চলতে পারে না। বলা হয় সবার আগে নিরাপত্তা। কিন্তু পদে পদে সেটি লঙ্ঘন করা হয়। কাউকে কোনো দায় নিতে হয় না বলে ঘটনার পুনরাবৃত্তি চলতেই থাকে। অসতর্কতা ও কর্তব্যকর্মে ঔদাসীন্য কী মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনতে পারে তার সর্বশেষ উদাহরণ হচ্ছে ধানমণ্ডির নির্মাণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা। কিন্তু এরপরও কি কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে না?

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *