টাকা এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমেও করোনা ছড়াতে পারে

সুস্থ্ থাকুন

স্বাস্থ্য ডেস্ক: করোনাভাইরাসের সর্বপ্রথম নমুনা পাওয়া যায় ৪১ বছর বয়সী এক লোকের শরীর থেকে, যিনি চীনের উহানের সামুদ্রিক প্রাণী বিক্রির জন্য নির্ধারিত মার্কেটে কাজ করতেন। সেই উহানের সামুদ্রিক প্রাণীর বাজার থেকেই সর্বপ্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু। যা বর্তমান বিশ্বে রূপ নিয়েছে ভয়ংকর ও প্রাণঘাতী মহামারীতে।

করোনাভাইরাস প্রথমে বাতাসে, বস্তু কণার মধ্যে নির্জিব অবস্থায় থাকে। ভাইরাসকে বেঁচে থাকতে হলে অবশ্যই একে কোনো না কোনো জীবন্ত কোষকে অবলম্বন করে বেঁচে থাকতে হবে। তাই যেকোনো ভাইরাসেরই সর্বপ্রথম কাজ হচ্ছে কোনো জীবিত কোষকে আক্রমণ করা। আক্রমণ করার পর ভাইরাসটি তার জেনেটিক বস্তু আক্রান্ত কোষের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ করে ভয়াবহ আকার ধারন করে।

করোনাভাইরাসের বাইরের অংশে থাকে গ্লাইকোপ্রোটিনের স্পাইক বা কাঁটা যেগুলোর সাহায্যে জড় পদার্থ থেকে ভাইরাস জীবন্ত কোষে আটকে গিয়ে সংক্রমিত হয়।

করোনাভাইরাস শুধু মানুষের দেহের মাধ্যমেই ছড়ায় না।। করোনা ছড়াতে পারে টাকায়ও। টাকায় করোনাভাইরাস চার সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার এ দল গবেষক। একইভাবে মোবাইলফোনের স্ক্রিন, প্লাস্টিকের বস্তুসহ অন্য পদার্থের উপরিভাগেও টিকে থাকতে পারে করোনাভাইরাস। এক গবেষণার সূত্র দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ স্থানীয় বায়োসিকিউরিটি ল্যাবরেটরি এ দাবি করেছে।

টাকা, স্মার্টফোনের স্ক্রিন, প্লাস্টিকের বস্তুসহ অন্য পদার্থের উপরিভাগেও টিকে থাকতে পারে করোনাভাইরাস। এক গবেষণার সূত্র দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ স্থানীয় বায়োসিকিউরিটি ল্যাবরেটরি এ দাবি করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিপ্রেডনেসের বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, এসএআরএস-কোভিড-২ খুবই শক্তিশালী। একই সঙ্গে এটি অন্তত ২৮ দিন পর্যন্ত মোবাইলফোনের স্ক্রিন, প্লাস্টিকের বস্তু এবং ব্যাংক নোটে থাকতে পারে। ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার একটি কক্ষে করোনাভাইরাস টিকে থাকতে পারে আরো বেশি সময় ধরে। তবে ভাইরাসটি বস্তুতে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ দশ ঘণ্টা বেঁচে থাকতে পারে।

গবেষণায় বলা হয়, গ্রীস্মের চেয়ে শীতকালে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ সবচেয়ে কঠিন হবে। কারণ এটি কম তাপমাত্রায় বেশি সময় ধরে টিকে থাকতে পারে। এই গবেষণাটি করোনা মোকাবেলায় একটি উল্লেখ যোগ্য দলিল হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করেন এর প্রধান গবেষক ডেবি ইগলস।

তিনি বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে এসএআরএস-কোভিড-২ অনেক সময় ধরে টিকে থাকতে পারে বিভিন্ন বহুল ব্যবহৃত বস্তুতে। তাই আমাদের অবশ্যই সবাইকে নিয়মিতভাবে ঘন ঘন হাত ধুতে হবে।

এছাড়া বিশেষজ্ঞরা বাজারে চালু নোটগুলোর ডিএনএ পরীক্ষা করে তাতে অন্তত ৭৮ রকম বিপজ্জনক মাইক্রোবের অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়েছেন যা থেকে মারাত্মক সব রোগ ছড়াতে পারে।

বাংলাদেশের একদল গবেষক গবেষণা করে বলেন, তারা বাংলাদেশি কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রায় এমন ধরণের ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পেয়েছেন, যা সাধারণত মলমূত্রের মধ্যে থাকে।

করোনাভাইরাস যাতে অতিমাত্রায় ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ব্যাংক নোট ব্যবহারে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকতে বলেছেন।

অবশ্যই টাকা গোনার সময় হাত দিয়ে মুখের লালা নেবেন না। ব্যাংক নোট বা টাকা নাড়াচাড়ার পরপরই অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। যারা অত্যধিক মুদ্রা নাড়াচাড়া করেন, যেমন ব্যাংক কর্মী বা মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীরা, তাদেরকে অবশ্যই অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে। তারা দস্তানা বা গ্লাভস পরে নিতে পারেন। সতর্কতা হিসেবে হ্যান্ড স্যানিটাইজারও ব্যবহার করতে পারেন। টাকা ধরা বা ব্যবহারের পর পরই চোখ, নাক বা মুখে হাত দেয়া যাবে না।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *