টাঙ্গাইলে প্রতিবেশি মাটি কাটায় বসতবাড়িতে ধস

সারাবাংলা

ইমরুল হাসান বাবু, টাঙ্গাইল থেকে:
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে প্রতিবেশি মাটি কেটে নেওয়ায় তছের উদ্দিনের বসতভিটায় ধস নেমেছে। এ নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হলেও বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় প্রতিবেশিদের ভয়ে তছের উদ্দিন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। জানা যায়, গালা ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের মৃত মিনহাজের ছেলে আনোয়ার হোসেন ও তার অপর দুই ভাই ২২০ খতিয়ানের ৬৮২ দাগের ২৩ শতাংশ ভূমির অধিকারী। সেখানে তারা বাড়িঘর করে দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করছেন। একই দাগে স্থানীয় তছের উদ্দিন ১৯ শতাংশ ভূমি ক্রয় করে বাড়িঘর নির্মাণ পূর্বক বসবাস করছেন। তার দুই ছেলে করিম ও রহিম প্রবাসী। তিনি বাড়ির উত্তর পাশে বেশকিছু বনজ ও ফলদ গাছ রোপণ করেছেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আনোয়ার হোসেন বাড়ির দক্ষিণ পাশে গভীর গর্ত করে মাটি কেটেছেন। ফলে গত বন্যায় তছের উদ্দির বসতভিটার উত্তরাংশ ও বসত ঘরের একাংশ ধসে পড়েছে। রোপণকৃত গাছগুলোও অপরিণত বয়সে হেলে পড়েছে।
তছের উদ্দিন জানান, তার দুই ছেলে বিদেশে থাকেন। বাড়িতে স্ত্রী ছেলের বউ ও নাতি নিয়ে বসবাস করেন। লোকবল না থাকায় আনোয়ার হোসেন, তার ভাই ফারুক ও এমদাদুল তার ৩ শতাংশ ভূমি জবরদখল করে রেখেছেন। তিনি বর্তমানে ১৬ শতাংশ ভূমি ব্যবহার করছেন। তিনি আরও জানান, বাড়ির উত্তরাংশে মাটি কেটে গভীর খাদ তৈরি ও ৩ শতাংশ ভূমি জবরদখল করাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করা হলেও কোন সমাধান তিনি পান নি।
প্রতিবেশি আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি বাড়ির প্রয়োজনে নিজের জায়গা থেকে মাটি কেটেছেন। এতে প্রতিবেশি তছের উদ্দিনের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বরং তছের উদ্দিনই তাদের কয়েক শতাংশ জায়গা জবরদখল করে রেখেছেন। গালা ইউপি সদস্য আব্দুস সামাদ জানান, আনোয়ার হোসেনদের কিছু জায়গা তছের উদ্দিনের বসত ঘরে সামান্য ঢুকে থাকলেও গভীর গর্ত করে মাটি কাটা সঠিক হয়নি। গ্রাম্য সালিশে একাধিকবার চেষ্টা করেও বিষয়টি সুরাহা করতে পারিনি। গালা ইউপি চেয়ারম্যান রাজ কুমার সরকার জানান, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করার জন্য ইউপি সদস্য আব্দুস সামাদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরে এ বিষয়ে ইউপি সদস্য তাকে কিছু জানাননি।

মন্তব্য করুন