করোনা টিকা প্রয়োগের নীতিমালা চূড়ান্ত

জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনার টিকা প্রয়োগে নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আজ মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে ১৩৭ পৃষ্ঠার এ নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়।

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত করোনার টিকা উৎপাদন করছে সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া, যা বেক্সিমকোর মাধ্যমে কিনে আনছে বাংলাদেশ। সেরামের এই টিকা গতকাল রাতেই জরুরি আমদানির অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

এদিকে, ভারতের চাহিদা মিটিয়ে অন্য দেশকে করোনার টিকা দেবে সেরাম-এমন শিরোনামে রবিবার গভীর রাতে আন্তর্জাতিক একটি গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা নিয়ে দেশে হুলুস্থুল চলে গতকাল সোমবার দিনভর। তবে এই খবর সঠিক নয় দাবি করে ভারত বলছে, সময়মতোই টিকা পাবে বাংলাদেশ।

সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী যথাসময়েই অন্য দেশের আগে এবং ভারত থেকে বাইরে টিকা রপ্তানির প্রথম দেশ হিসেবে টিকা পাবে বাংলাদেশ। চলতি জানুয়ারির শেষ দিকে বা ফেব্রুয়ারির শুরুতেই বাংলাদেশ টিকা পাবে বলে এখনো আশাবাদী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এই টিকা আসা নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো জানিয়েছে, চুক্তির নির্ধারিত সময়েই টিকা পাবে বাংলাদেশ, সংশয় নেই। টিকার ভারতীয় উৎপাদক সেরাম ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, টিকা রপ্তানিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

দেশে করোনাভাইরাসের টিকা আনার আগাম প্রক্রিয়ার বিষয়গুলো সব ঠিকঠাকই চলছিল। তবে রবিবার গভীর রাতে আন্তর্জাতিক ওই গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ভারত সরকার নিজ দেশে টিকার চাহিদা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত টিকা রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এ নিয়ে গতকাল সকাল থেকেই দেশে সরকার থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে শুরু হয় হুলুস্থুল। বেলা বাড়ার সঙ্গে তৎপরতা বেড়ে যায় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সহ অন্যদের।

দুপুরের আগেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী। বিকেলে ব্রিফ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সন্ধ্যায় ব্রিফ করেন দেশে টিকা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এর মাঝেই বিচ্ছিন্নভাবে ভারত ও বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে চলতে থাকে যোগাযোগ। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভারতের পক্ষ থেকেও আসতে থাকে বক্তব্য।

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার ও ভারতের পক্ষ থেকে একই সুরে আগের মতোই নিশ্চিত করা হয়, চুক্তি অনুসারে যথাসময়ে, অন্য দেশের আগে এবং ভারত থেকে বাইরে টিকা রপ্তানির প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশই টিকা পাবে।

এ ক্ষেত্রে কয়েক দিন ধরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যেভাবে বলা হচ্ছিল, জানুয়ারির শেষ অথবা ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকেই দেশে টিকা আসবে, সেই অবস্থানেই রয়েছে সর্বশেষ পরিস্থিতি। ভারতের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা হলেও তা বাংলাদেশে টিকা আসার পথে বাধা হচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে সব পক্ষ থেকেই।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *