টুঙ্গিপাড়া : মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে

সারাবাংলা

এহতেশামুল হক, টুঙ্গিপাড়া থেকে:
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় লোকবল সংকটের মধ্যেও মা ও শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষায় ভালো সেবা দিচ্ছে ১০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। প্রয়োজনের তুলনায় জনবল খুবই কম থাকায় মা ও শিশু রোগীর সেবায় কল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরতদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরও তারা আন্তরিকতার সঙ্গে স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের সেবায় এলাকাবাসী সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, এ কেন্দ্রে চিকিৎসক নার্স সহ মোট জনবল থাকার কথা ১৫ জন। কিন্তু কর্মরত রয়েছেন ১ জন করে মেডিকেল অফিসার, পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা সহকারী, নার্সিং এটেনডেন্ট ও আয়া সহ মাত্র ৪ জন। শূন্য রয়েছে একজন করে গাইনী কনসালট্যান্ট, এ্যানেস্খেশিয়া কনসালট্যান্ট, ফার্মাসিস্ট, ল্যাব টেকনিশিয়ান, আয়া, ৪ জন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, ২ জন ওয়ার্ডবয় সহ মোট ১১টি পদ। কেন্দ্রটির অপারেশন থিয়েটারে বিপি ব্লেড, আরটারি ফোর্সেফ, মসকিটো ফোর্সেফ, টিস্যু ফোর্সেফ, স্পঞ্চ হোল্ডিং ফোর্সেফ, নিডিল হোল্ডার, প্লেন ফোর্সেফ, গালিপট সহ সিজারিয়ান অপারেশনের কোন যন্ত্রপাতি নেই। তাই ওটি চালু করা যায়নি। এই কেন্দ্রে কোন গ্লানযান (অ্যাম্বুলেন্স) নেই।
আরও জানা যায়, এত সংকটের মধ্যে দিয়েও প্রতি মাসে এ কেন্দ্র থেকে গর্ভবতী ৫শ মায়ের চেকআপ, ৫শ প্রসূতির স্বাভাবিক প্রসব সেবা, প্রসব পরবর্তী ৪০ জনকে পরিচর্যা, প্রসব পরবর্তী ৬শ দম্পত্তিকে পরিবার পরিকল্পনা সেবা, ১শ সক্ষম দম্পত্তিকে পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিচ্ছে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। এ ছাড়া প্রতিমাসে ২শ নবজাতকে শিশুস্বাস্থ্য সেবা ও ৭শ কিশোরীকে কৈশরকালীন প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য শিক্ষা রেজিঃপ্রাপ্ত গর্ভবতী রোগীদের মুঠোফোনে সুবিধা, অসুবিধা ও পরবর্তী চেকআপের বিষয়ে অবহিত করা সহ ৮০ টির অধিক সেবা এ কেন্দ্র থেকে দেওয়া হচ্ছে। উপজেলার কুশলী গ্রামের গর্ভবতী মরিয়ম বেগম বলেন, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে পরিস্কার ও পরিচ্ছন্ন। লোকবল নেই তারপরও তার আন্তরিকতার সঙ্গে সাধ্যমত হাসিমুখে সব সেবা দেন। আমরা তাদের সেবায় সন্তুষ্ট। এখানে সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যবস্থা নেই। কিন্তু এখানে স্বাভাবিক ডেলিভারির ব্যবস্থা বেশ ভালো।
রোগীর স্বজন হাবিবুল্লাহ বলেন, স্বাভাবিক ডেলিভারিতে জটিলতা দেখা দিলে এখান থেকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে যেতে বলা হয়। এছাড়া এখানে গ্লানযান (অ্যাম্বুলেন্স) না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হয় গর্ভবতী মায়েদের। বাইরে থেকে কখন গ্লানযান আসবে তার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এটি মা ও শিশুর জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এখানে সিজারিয়ান অপারেশন চালু ও গ্লানযান দেওয়া হলে সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে। পাটগাতী গ্রামের সুমন শেখ বলেন, এখানে সব সেবার মান খুবই ভালো। কিন্তু জনবল সংকটে কেন্দ্রটিতে কর্মরতরা বিশাল জনগোষ্ঠিকে সেবা দিতে হিমশিম খান। এখানে চিকিৎসক সহ ১১ জনের পদ পূরণ করা হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জম্মভূমির মা ও শিশুরা আরও মান সম্মত সেবা পেয়ে উপকৃত হবেন।
উপজেলা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল কর্মকর্তা মেহেরুন নেছা বলেন, স্বল্প জনবল দিয়ে বর্হিঃ বিভাগ ও আর্ন্তবিভাগে ২৪ ঘণ্টা পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্বাভাবিক প্রসব সহ সব সেবা দেওয়া হচ্ছে। এটি অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন রোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখছে। তবে খুব কমক্ষেত্রে স্বাভাবিক প্রসবে জটিলতা দেখা দিলে তখন আমরা প্রসূতিকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠাই। এখানে সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যবস্থা চালু হলে সেবা গ্রহিতারা আরও উপকৃত হবে। এ ছাড়া গ্লানযানের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *