টেকনাফে ভরপুর শীতকালীন শাক-সবজি

সারাবাংলা

ফরিদুল আলম, টেকনাফ থেকে : কক্সবাজার জেলার টেকনাফে শীত মৌসুমে চাষাবাদকৃত শীতকালীন তরি-তরকারী, শাক-সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, পরিচর্যা, কৃষি অফিসের তদারকি, দিক-নির্দেশনা ও সার্বিক সহযোগিতায় এই মৌসুমে কৃষকেরা ভালো ফলন ফলালেও একটি ব্যবসায়ী চক্র মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ৩৮৮.৮৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং, হ্নীলা, টেকনাফ সদর, সাবরাং, বাহারছড়া, সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ পৌর এলাকায় মুলা ৬২ হেক্টর, লাল শাক ৩৩ হেক্টর, পালং শাক ৪ হেক্টর, বেগুন ৪৫ হেক্টর, টমেটো ৪৫ হেক্টর, ফুলকপি ৭ হেক্টর, বাঁধাকপি ১০ হেক্টর, গাজর ২ হেক্টর, শিম ২৭ হেক্টর, লাউ ৪২ হেক্টর, বরবটি ২৬ হেক্টর, ঢেঁড়শ ২০ হেক্টর, মিষ্টি কুমড়া ৪৫ হেক্টর, করলা ২৮ হেক্টর, ফ্রান্সবীন ৭০ হেক্টর ও অন্যান্য ৫ হেক্টর, আলু ৯২ হেক্টর, মিষ্টি আলু ৭৬ হেক্টর, সরিষা ৭ হেক্টর, বাদাম ৯ হেক্টর, ভ‚ট্টা ১৪৬ হেক্টর, আখ ০.৫ হেক্টর, ফেলন ৯৪ হেক্টর, পেঁয়াজ ১৯ হেক্টর, রসুন ৪ হেক্টর, ধনিয়া ২৭ হেক্টর, মরিচ ২৮৫ হেক্টর, তরমুজ ৯২ হেক্টর, ক্ষিরা ৬০ হেক্টর ও বাঙ্গি ১৯ হেক্টর সর্বমোট ১৪০১ হেক্টর জমি চাষাবাদ করা হয়েছে। এসব ক্ষেতে শাক-সবজি ও ফসলাদি এখন বাজারে আসতে শুরু করেছে। প্রতি বাজারে উপজেলার হাট-বাজার সমূহ দেশিয় নিত্যপণ্যে সয়লাব হচ্ছে।

কিছুদিন আগেও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছিল। রবি মৌসুমের উৎপাদিত তরি-তরকারী, শাক-সবজি বাজারে আসা শুরু হওয়ায় জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বিভিন্ন বাজার ঘুরে স্থানীয় কৃষক ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে বাজার চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এসব ফসলাদি যতবেশী উৎপাদিত হয়ে বাজারে আসা শুরু করবে ততই নিত্যপণ্যের দাম কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় কম্বনিয়া পাড়ার দেলোয়ার ৭ মণ ও পশ্চিম মহেশখালীয়া পাড়ার জাহিদ, রঙ্গিখালী জুম্মা পাড়ার আবুল কাশেমও প্রতিদিনের মতো বেগুন নিয়ে বাজারে ক্ষেতে উৎপাদিত বেগুন বিক্রি করতে বাজারে এনেছে। বর্তমানে পাইকারী হিসেবে হাইব্রীড বেগুন ১৫ টাকা এবং দেশিয় বেগুন ২৫-২৭ টাকায় বিক্রি করেছে। আর দোকানদারেরা খুচরা হাইব্রীড বেগুন ৩০-৩৫ টাকা এবং দেশিয় বেগুন ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি করছে। যা কিছুদিন আগেও ছিল ৭০-৮০ টাকা। ঊলুচামরীর ছৈয়দ আকবর বেশ কিছু মুলা নিয়ে বাজারে বিক্রি করতে এসেছে। তিনি জানান, প্রতি মণ ২শ টাকায় বিক্রি করেছে। অনেকে মুলার দাম না পাওয়ায় অনেকে অভিমানে ক্ষেত হতে কষ্ট করে মুলা পর্যন্ত তুলছে না বলে জানা গেছে। মানে দোকানীরা প্রতি কেজি ৫ টাকায় কিনে ১০/১৫ টাকায় বিক্রি করছে। কিছুদিন আগেও মুলার দাম ছিল ৫০-৬০ টাকা। লাল মরিচের প্রতি কেজি ২শ ১০-১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ঝাল কমতে শুরু করেছে কাঁচা মরিচের। ১শ টাকার ঊর্ধ্বের থাকা কাঁচা মরিচ এখন প্রতি কেজি ৭০-৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশিয় টমেটো ৪০ টাকায় কিনে বিক্রি করছে ৭০ টাকায়। গোল আলু ১৫ টাকায় ক্রয় করে বিক্রি করছে ৪০-৪৫ টাকায়, প্রতি কেজি ফুলকপি ১৫ টাকায় কিনে বিক্রি করছে ৩০-৩৫ টাকায়, বাঁধাকপি প্রতি কেজি ১০-১২ টাকায় ক্রয় করে ২০-২৫ টাকায়, দেশিয় বড় আলু প্রতি কেজি ৮০ টাকায়, দেশিয় শিম প্রতি কেজি খোলা ৫০ টাকা, প্রতি পিস লাউ ২০ টাকায় কিনে বিক্রি করছে ৪০-৫০ টাকায়, পটল ৬৫-৭০ টাকা, চায়না পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকা, মিশরীয় পেঁয়াজ ৫৫-৬০ টাকা, দেশিয় নিম্ন মানের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৭০ টাকার ঊর্ধ্বে বিক্রি হচ্ছে। আবার অনেক চাষি পরিশ্রমের মূল্য না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. ভবসিন্ধু রায় জানান, সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় কৃষি বিভাগ কৃষি কাজে সংশ্লিষ্টদের সর্বাত্মক সহায়তা, পরামর্শ ও তদারকি করে আসছে। আগামীতেও কৃষি বিষয়ক যেকোন পরামর্শ পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বা উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। এদিকে কৃষকরা যে হাঁড় ভাঙা পরিশ্রম করে স্বল্পমূল্যে বাজারে নিত্যপণ্য সরবরাহ দিচ্ছেন। কিন্তু তরকারী ব্যবসায়ী চক্র গলা কাটা বাণিজ্য করে মুনাফা পকেটস্থ করে জনজীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে বলে কয়েকজন ক্রেতা জানান। তাই বাজার পর্যবেক্ষণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *