টেকনাফে রাখাইন নারী খুন, ঘাতকের উপযুক্ত শাস্তি দাবি

সারাবাংলা

ফরিদুল আলম, টেকনাফ থেকে : কক্সবাজার জেলার টেকনাফে বার্মাইয়া রাখাইন ঘাতক স্বামীর ছুরিকাঘাতে ৩ সন্তানের জননী নিহতের ঘটনায় স্বামীকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে স্বামী-স্ত্রীর কলহে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া পরিবারে একদিকে কিস্তির ঋণ এবং অপরদিকে ৩ নাতিকে নিয়ে চরম বেকায়দায় রয়েছে হতদরিদ্র নানী। এই ব্যাপারে অসহায় নানী স্থানীয় সুহৃদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের কাছে সহায়তা কামনা করেছেন। রোববার দুপুরে উপজেলার হ্নীলা চৌধুরীপাড়া রাখাইন পল্লীর মৃত উছিংগ্যার বাড়ি পরিদর্শনে তার স্ত্রী খিং চ ম্যার সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, আমার মেয়েকে যেমন নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে তেমনি পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে খুনিকে গ্রেফতার করায় ধন্যবাদ জানাচ্ছি। মামলা চালানোর জন্য আমার খরচ নেই। আমরা এই খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি। আমি খুবই গরীব ও পার্শবর্তী লোকজন থেকে নিয়ে পেট চালায়। এখন খুন হওয়া আমার মেয়ে চ খিং ওয়ান (৪২) এর রেখে যাওয়া বিভিন্ন ক্ষুদ্র ঋণ দানকারী সংস্থা হতে ৪/৫টি কিস্তি নিয়েছে এবং উচো ওয়াং (১৮), মাং নাইচো (১৫) এবং চো ওয়াং মাইচো (১৩) কে রেখে গেছে। তার মধ্যে উচো ওয়াং (১৮) মানসিক প্রতিবন্ধী। এই ৩ ছেলে কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা মাকে হারিয়েছি, বাবাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। এখন আমাদের কি হবে? তাদের নানী আরও বলেন, এখন এতিম ৩ নাতিকে লালন-পালন করতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। তাই সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে সহায়তা কামনা করছি। গ্রাম সর্দার মাষ্টার মংথিং অং বলেন, আসলে এই পরিবারটি খুবই দরিদ্র তার উপর অনাকাঙ্খিত একটি ঘটনা। এই তিন ছেলেসহ বৃদ্ধার জীবনটি আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পরিবারটির প্রতি সকলের সহায়তার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসা দরকার।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া ২টায় উপজেলার হ্নীলা চৌধুরী পাড়া রাখাইন পল্লীতে উছিংগ্যার মেয়ে চ খিং ওয়ান (৪৩) এবং স্বামী বার্মাইয়া উক্য ওয়ান এর সঙ্গে পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে স্বামী স্ত্রীর বুকের দুই পাশে, তলপেট ও হাতে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করলে সে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে যায়। এরপর তাকে টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করে। এই ঘটনার খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার এসআই রফিকুল ইসলাম সর্ঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পানখালী পাহাড়ি ঢালার জনৈক জাফরের পেয়ারা বাগান থেকে গ্রেফতার করে। এরপর টেকনাফ মডেল থানার মামলার স্মরক নং-০২,তারিখ-০১০১-২০২১ইং দায়েরের পর আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *