টেকনাফে সড়কে দুর্বৃত্তের গুলিতে রক্তাক্ত ২

সারাবাংলা

ফরিদুল আলম, টেকনাফ থেকে:
কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলায় প্রধান সড়কে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ২জনকে গুলি করে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। এঘটনায় ত্রিমুখী বক্তব্য পাওয়া গেলেও প্রকৃত ঘটনা কি তা আদৌ স্পষ্ট নয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আহতদের মধ্যে মো. নুরের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় ঢাকা বক্ষব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জানা যায়, গত শনিবার রাত সোয়া ১০টায় হ্নীলা নাফ ফিলিং ষ্টেশন হতে ২টি মোটর সাইকেল নিয়ে হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী রাশেদ মাহমুদ আলীর বন্ধু, টেকনাফ উপজেলা মানবিক সোসাইটির সভাপতি এবং হ্নীলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক ইমরান খানকে জাদিমোরা নয়াপাড়াস্থ বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে ফিরে আসার পথেই হ্নীলা এ্যাকোয়া কালচার সংলগ্ন প্রধান সড়কের ব্রীজে চিহ্নিত দুর্বৃত্তরা গাড়ি গতিরোধ করে পূর্ব রঙ্গিখালীর জনৈক নুর মোহাম্মদের স্ত্রী লেদা ক্যাম্পগামী রোহিঙ্গা নারীর স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিচ্ছিল। এমতাবস্থায় মোটর সাইকেলযোগে মো. নুরেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সড়ক ডাকাতদের গালি-গালাজ করে এসব না করার জন্য নিষেধ করে। এতে সড়ক ডাকাত দল ক্ষুদ্ধ হয়ে বলে তোকেই এতদিন খুঁজছি বলেই মুঠোফোন কেড়ে নেয় এবং হাতে থাকা দা-কিরিচ নিয়ে কোপাতে থাকে। এক পর্যায়ে উপর্যুপরি গুলিবর্ষণ করলে মোটর সাইকেলে থাকা চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলীর ফুফাত ভাই হ্নীলা ঊলুচামরীর শওকত আলীর পুত্র মোঃ সওয়ার (৩২) এবং নির্বাচনী কর্মী ও বন্ধু উলুচামরী লামার পাড়ার ছৈয়দ নুরের পুত্র মোঃ নুর (৩৫) কে হাতে এবং পায়ে গুলি করে। দূবৃর্ত্তরা যাওয়ার সময় মোঃ নুরকে মারলে ৫লাখ পাবে বলে চিৎকার দেয়। পরে এই ঘটনার খবর পেয়ে লোকজন গুলিবিদ্ধদের দ্রুত উদ্ধার করে লেদা আইএমও হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। এই ঘটনার খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভিকটিমদের সাথে কথা বলেন। এদিকে ভিকটিমদের একজন গুলিবর্ষণকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে সনাক্ত করতে পেরেছে বলে দাবী করেন। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। ২০জুন (রবিবার) দুপুরের দিকে গুরুতর আহত মোঃ নুরকে ঢাকা বক্ষব্যাধি হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এদিকে স্থানীয়রা আরো জানায়, এই সড়কে চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনায় উলুচামরী লামার পাড়ার এক যুবক প্রসিদ্ধ। তার কারণে এই সড়কে নানা অঘটন ঘটে আসছে। এই দূবৃর্ত্তকে যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং পূর্ণবাসন করে আসছে তাদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবী উঠেছে। এদিকে আরেকটি মহলের দাবী,গুলিবিদ্ধ মোঃ নুর এবং হামলাকারীদের সাথে একযুগের অধিক সময় ধরে জমি নিয়ে ডাঙ্গা-হাঙ্গাম, দখল-জবরদখল ও মামলা মোকর্দ্দমা চলে আসছে। এরই জেরধরে সময়-সুযোগে মোঃ নুরকে একা পাওয়ায় প্রাণ নাশের চেষ্টা চালিয়েছে। যা খুবই দুঃখজনক।
এই ঘটনার বিষয়ে হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান ও সদ্য স্থগিত হয়ে যাওয়া ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন,সড়কে গুলিবিদ্ধদের মধ্যে একজন আমার ফুফাত ভাই, অপরজন আমার একনিষ্ট কর্মী ও বন্ধু। হয়তো আমার বিরোধী কোনপক্ষ ঈর্ষান্বিত হয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করার অপরাধে তাদের হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানাচ্ছি। এই ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান জানান,এই ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এটি পরিকল্পিত ঘটনা। এই ব্যাপারে অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *