ডেমোক্র্যাটদের ট্রাম্পের অভিশংসনে ভোটের প্রক্রিয়া শুরু

আন্তর্জাতিক

অনলাইন ডেস্ক: মেয়াদকালের প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন ডেমোক্রেটরা । সোমবার ট্রাম্পের অভিশংসনের প্রস্তাবটি প্রতিনিধি পরিষদে তোলার সব ধরণের প্রস্তুতি এরইমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

হাউসের অন্যতম সদস্য টেড লিউ জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ১৯০ জনের বেশি সদস্য এই প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছেন। হাউসে ভোটাধিকার রয়েছে ৪৩৫ জনের। রিপাবলিকানরা কেউ এখনও অভিশংসন বিচারের প্রস্তাবে সই করেননি। তবে ট্রাম্পকে নিয়ে দলের অসন্তোষ স্পষ্ট।

রিপাবলিকান সেনেটর প্যাট টুমি যেমন বলেই দিয়েছেন, ট্রাম্প ইমপিচড হওয়ার মতো অন্যায়ই করেছেন। একটি চ্যানেলকে তিনি বলেন, ‘হাউস বিষয়টাকে পুরোপুরি রাজনৈতিক রং দেবে কি না, সেটা নিয়েই আমার চিন্তা। আমি মনে করি, প্রেসিডেন্ট এমন অপরাধ করেছেন, যাতে তাকে অভিশংসন করা যায়। কিন্তু সিনেটে কী হবে, বলতে পারছি না।’

বাইডেন নিজে অবশ্য ভোটাভুটি নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। বলেছেন, কংগ্রেস যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার, তা নেবে। ট্রাম্প যা করেছেন, তা এতটাই গুরুতর যে, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ইতিমধ্যেই সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্তাকে পেলোসি আর্জি জানান, শাসনকালের শেষ কয়েকটা দিনে ‘অপ্রকৃতিস্থ’ ট্রাম্পের হাতে যেন পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডারের চাবিকাঠি না-থাকে।

হাউসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি আগেই জানিয়েছেন, ক্যাপিটলে হামলার পরে ট্রাম্প নিজে থেকে ইস্তফা না-দিলে তাকে অভিশংসন করার পথেই হাঁটবেন তারা। প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে তাকে সরিয়ে দিতে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করা যায়। তার জন্যও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের উপরে চাপ বাড়াচ্ছেন ডেমোক্র্যাটরা। অভিশংসন বিচারের খসড়া তৈরিতে ক্যালিফর্নিয়ার কংগ্রেস সদস্য লিউয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তার বক্তব্য, ট্রাম্প যে জনতাকে ক্যাপিটলে হামলা চালাতে উস্কেছিলেন, তার প্রমাণ রয়েছে ভিডিও ফুটেজে।

পেলোসি তার সতীর্থ ডেমোক্র্যাটদের একটি চিঠি দিয়ে বলেছেন, ‘এই সপ্তাহের মধ্যেই ওয়াশিংটনে ফেরার জন্য তৈরি থাকতে অনুরোধ জানাচ্ছি আপনাদের। আমাদের গণতন্ত্রকে যারা অপবিত্র করেছে, তাদের দোষী সাব্যস্ত করা অবশ্য প্রয়োজন।’

যদিও অভিশংসন বিচারের প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি কবে হবে, তা স্পষ্ট করেননি পেলোসি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সোমবার প্রস্তাব পেশ হলে হাউসে ভোটাভুটি হতে পারে বুধবার। প্রস্তাব পাশ হলে সিনেটে শুনানি হবে। প্রেসিডেন্ট দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে পদ ছাড়তে হবে।

প্রেসিডেন্টকে সরতে হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট কার্যভার নেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের বেলায় হয়তো সেই সুযোগ পাবে না বিদায়ী প্রশাসন। কারণ, ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সিনেটের অধিবেশন মুলতুবি রয়েছে। অতএব ২০ জানুয়ারির আগে শুনানি শুরুর সম্ভাবনা কার্যত নেই। আর সেই দিনই পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন শপথ নিয়ে ফেলছেন।

তবে তার পরেও দোষী সাব্যস্ত হলে ভবিষ্যতে ট্রাম্পের কোনও সরকারি পদে থাকা বা পরবর্তী নির্বাচনে লড়ার পথে বাধা তৈরি হবে।

২৫তম সংশোধনী অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট যদি তার কার্যক্রম পরিচালনায় অসমর্থ বিবেচিত হন, তবে নতুন কাউকে সেই দায়িত্ব দেওয়া যায়। তবে এ জন্য কেবিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সেরও সম্মতির দরকার হবে।

তারা কংগ্রেসের কাছে এই মর্মে চিঠি লিখবেন যে পেন্স ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হবেন। কারণ, ট্রাম্প এ দায়িত্ব পালনে অসমর্থ। মার্কিন সংবিধানে এ সংশোধনী আনা হয় ১৯৬৭ সালে। তবে এর প্রয়োগ এযাবৎ হয়নি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *