ঠাণ্ডায় কাঁপছে জনপদ

সারাবাংলা

ওমর ফারুক, রাজশাহী ব্যুরো :
রাজশাহী মহানগর ও আশেপাশের উপজেলায় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সূর্যের দেখা মিললেও শীতের তীব্রতা বাড়ছে। প্রতিদিনই কমছে তাপমাত্রার পরিমাণ। যদিও চলতি সপ্তাহে দুইদিন দিনভর সূর্যের দেখা মেলেনি। শীত বাড়ায় রাজশাহীর ফুটপাত ও অভিজাত মার্কেটগুলোতে গরম কাপড় কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। হঠাৎ কিছুটা শীত বেড়ে যাওয়ায় বেচাকেনা বেশি হওয়ায় বিক্রেতারা আগের তুলনায় গরম কাপড়ের দাম বেশি ধরছেন বলে ক্রেতাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি সপ্তাহের গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুইদিন দিনভর সূর্যের দেখা মেলেনি। তার আগে গত রোববারও ছিল কুয়াশাচ্ছন্ন রাজশাহী। গত বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবারও ছিল কুয়াশার চাদরে ঢাকা রাজশাহী। পরপর দুইদিন পর সূর্যের দেখা পায় রাজশাহীবাসী। ওইদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরো দিন কুয়াশায় ঢাকা ছিল আকাশ। অন্যদিনের মতো কুয়াশা থাকলেও শীতের তীব্রতা কিছুটা বেশি ছিল। ছুটির দিন হওয়ায় এদিন রাস্তাঘাটে তেমন মানুষ দেখা যায়নি। রাস্তাঘাটে প্রয়োজনীয় কাজে বের হওয়া মানুষকে গরম কাপড় ও পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বের হতে দেখা গেছে। এরপর থেকে রাজশাহীতে তেমন শীত অনুভূত হয়নি। রাতে কিছুটা গরম অনুভূত হয়। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার রাজশাহীতে ভোর থেকে কুয়াশাচ্ছন্ন ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই কুয়াশা কেটে সূর্যের দেখা পাওয়া যায়। এ দিন সূর্য উঠলেও অন্যদিনের তুলনায় শীতের তীব্রতা কিছুটা বেশি ছিল। সকালে অফিস-আদালতগামী মানুষকে গরম কাপড় পরে গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা গেছে। এছাড়া বাড়তি সতর্কতা হিসেবে মায়েদের তার শিশুদের গরম কাপড় ও টুপি পরিয়ে রাখতে দেখা যায়। মহাসড়কে সকালে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। সকাল সাড়ে ১০ টার পর থেকে কুয়াশা না থাকলেও শীতের তীব্রতা কম ছিল না।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের গত শুক্রবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৬টায় বাতাসের আদ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ। মঙ্গলবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই রাজশাহী মহানগর ও আশেপাশের উপজেলায় একটু বেশি শীত অনুভূত হলেও গত ৬/৭ দিন ধরে তাপমাত্রার পরিমাণ কিছুটা কমেছে। এতে করে এ এলাকায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। সঙ্গে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উঠেনি। এদিন অন্যান্য দিনের তুলনায় তাপমাত্রার পরিমাণ কম ছিল। বেড়েছে শীতের তীব্রতা। চলতি সপ্তাহের গত রোববার সকালে সূর্যের না উঠলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্য আকাশে উঁকি দিয়েছিল। ওই দিন সেটাও দেখতে পায়নি রাজশাহীবাসী। চলতি মৌসুমে পুরো নভেম্বর মাস ছিল শীতহীন। শীতের পোশাক ছাড়াই নগর ও আশেপাশের উপজেলার মানুষ বাইরে প্রয়োজনীয় কাজে বেরিয়েছে। ডিসেম্বর মাস পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শীতের পমিাণ বাড়তে থাকে। এদিকে শীত বেশি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরম কাপড়ও বিক্রি বেড়েছে। নগরের ফুটপাতসহ অভিজাত মার্কেটগুলোতে শীতের পোশাক কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। শীতের পোশাকের পাশাপাশি ক্রেতাদের কম্বল কিনতেও দেখা গেছে। সাধ ও সাধ্য অনুযায়ী গরম কাপড় কিনছেন মানুষ।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *