ডা. সাবিরা হত্যা: ৩৬ ঘণ্টা পর অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা

আইন আদালত জাতীয়

ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীর কলাবাগানের ফার্স্ট লেনের ৫০/১ ভাড়া বাসা থেকে গ্রিন লাইফ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. কাজী সাবিরা রহমান লিপির (৪৭) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা করেছে তার পরিবার। তবে নিহতের ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পর থানায় মামলা লিপিবদ্ধ হয়।

মঙ্গলবার (১ জুন) দিবাগত রাত ১২টা ১২ মিনিটে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিউ মার্কেট-কলাবাগান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেশ কিছু বিষয় সামনে রেখে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হলেও নিহত ডা. সাবিরার পারিবারিক কিছু বিষয়ে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। এ কারণে তদন্তে বিষয়টি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে, এখনও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত করে কিছু বলার সময় আসেনি বলে মনে করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের নিউমার্কেট জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) শাহেন শাহ মাহমুদ বলেন, নিহতের মামাত ভাই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা হওয়ার আগে থেকেই আমরা এটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। আশা করছি দ্রুত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পারব।

এদিকে, মঙ্গলবার (১ লা জুন) দুপুর আড়াইটায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে ডা. কাজী সাবিরা রহমান লিপির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ মামাত ভাই রেজাউল হাসান মজুমদার জুয়েলের কাছে বিকেল সাড়ে ৩টায় হস্তান্তর করা হয়। আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

ওইদিন প্রথমে আগুনের খবরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বাসায় আগুনের ধোঁয়া দেখতে পান। নিহত চিকিৎসকের শরীরের কিছু অংশ দগ্ধ ছিল বলে জানান তারা। মরদেহ উদ্ধারের পর পিঠে দুটি ও গলায় একটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পায় পুলিশ।

খবর পেয়ে সোমবার ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট। তারা মরদেহ থেকে আলামত সংগ্রহ করে।

ক্রাইম সিন ইউনিট জানায়, সাবিরাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা (ব্রুটালি কিলড) করা হয়েছে। তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের পর বিছানায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। দাহ্য পদার্থ না থাকায় আগুন তেমন ছড়ায়নি। তবে সাবিরার শরীরের কিছু অংশ এতে দগ্ধ হয়।

সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের ইন্সপেক্টর শেখ রাসেল কবির বলেন, ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাবিরার শ্বাসনালী কেটে ফেলা হয়েছে। তার দেহে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও পোড়ার ক্ষত আছে। আমরা আপাতত নিশ্চিত হয়েছি- এটি হত্যাকাণ্ড। আলামত দেখে মনে হয়েছে, মধ্যরাতে কোনো এক সময় হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে।

নিহত চিকিৎসক সাবিরার এক ছেলে ও এক মেয়ে আছেন। দুই ভাই ও এক বোনের মাঝে সাবিরা ছিলেন সবার বড়। তার বাড়ি কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার ভরসার বাজার এলাকায়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *