ডেব হালান্ড হচ্ছেন  যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আদিবাসী আমেরিকান মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কংগ্রেসওম্যান ডেব হালান্ডকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মনোনিত করতে যাচ্ছেন । নিয়োগ পেলে ডেবই হবেন প্রথম কোনো আদিবাসী গোষ্ঠীর সদস্য যিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ পরিচালনা করবেন। খবর বিবিসির।

নিয়োগ নিশ্চিত হলে সরকারি ভূমি বিষয়ক এজেন্সির নেতৃত্ব দেবেন ডেব। আদিবাসী আমেরিকানদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় দেখভালে অন্যতম ভূমিকা রাখে এই এজেন্সি।

৬০ বছর বয়স্ক ডেব হালান্ড লাগুনা পুয়েবলো আদিবাসী গোষ্ঠীর একজন সদস্য। ২০১৮ সালে তিনি নিউ মেক্সিকো থেকে কংগ্রেসওম্যান হিসেবে তিনি নির্বাচিত হন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম দুই আদিবাসী আমেরিকান নারী কংগ্রেস সদস্যের একজন হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তিনি ইতিহাস গড়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রিপরিষদে প্রথম কোনো আদিবাসী আমেরিকান সদস্যও হতে যাচ্ছেন ডেব হালান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের আদিবাসীদের অধিকার রক্ষায় আন্দোলনকারী বিভিন্ন সংস্থা ও প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটিকরা ডেবকে মনোনিত করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

নিয় ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক বক্তব্যে ডেব বলেন, ‘বাইডেন-হ্যারিসের জলবায়ু বিষয়ক এজেন্ডা সামনে এগিয়ে নিতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আদিবাসীদের যে সম্পর্ক খারাপ দিকে গিয়েছিল তা আবার ঠিক করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রীপরিষদে প্রথম আদিবাসী আমেরিকান সদস্য হিসেবে কাজ করতে আমি গর্ববোধ করবো।’

যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ডেব হালান্ডকে কংগ্রেসের অন্যতম সম্মানিত সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটিক হিসেবে পরিচিত কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ এই ঘটনাকে ‘বিভিন্ন মাত্রায় ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেন।

‘তিনি জলবায়ু ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কেন্দ্রীয় ভূমি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে তার মতো একজন ন্যাটিভ আমেরিকান নারীর ভূমিকা খুবই ব্যাপক,’ বলেন ওকাসিও।

নিগোগপ্রাপ্ত হলে ডেব যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ কোটি একর ভূমি, ৩২টি জাতীয় পার্ক দেখভালের দায়িত্ব পাবেন। এছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ৫৭৪টি আদিবাসী গোষ্ঠীর প্রায় ২০ লাখ অধিবাসীর সঙ্গে কাজ করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সঙ্গে আদিবাসীদের বিরোধপূর্ণ সম্পর্কের ইতিহাস রয়েছে। তাই ডেব হালান্ডের এই নিয়োগ সাংস্কৃতিক গুরুত্বও বহন করে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *