ডেমরায় হারুন হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার ৩

জাতীয়

এসএম দেলোয়ার হোসেন:
রাজধানীর ডেমরা থানার বামৈল বাশেঁরপুল এলাকায় হারুনর রশিদ হাওলাদার হত্যার অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে ডেমরা থানা পুলিশ। এরা হলো- লিপি আক্তার (২০), রাজন হাওলাদার (২২) ও মাহাবুব খান (২৪)। আজ বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) ঢাকা প্রতিদিনকে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রাপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখার উপ-কমিশনার মো. ওয়ালিদ হোসেন।
তিনি জানান, গত বুধবার সকাল ৭টায় গোপন সংবাদে শরীয়পুর জেলার ডামুড্যা এলাকা হতে লিপি ও রাজনকে এবং দুপুর ২টায় ডেমরা থানা এলাকা হতে মাহাবুবকে গ্রেফতার করা হয়।
ডেমরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান জানান, নিহত হারুনর রশিদ হাওলাদার পেশায় একজন মাইক্রো গাড়ীর ড্রাইভার। গত ২৩ নভেম্বর ভিকটিম তার জুরাইনের বাসা থেকে রাত অনুমান ৯ টায় বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরবর্তীতে গত ২৪ নভেম্বর বেলা অনুমান ১২টার দিকে ভিকটিম তার নিজ নাম্বার থেকে ছোট বোনের স্বামীকে কল করে বলে সে অনেক বিপদে আছে জরুরী টাকা লাগবে। এই বিষয়টি ছোট বোনের স্বামী ভিকটিমের স্ত্রীকে জানালে সে স্বামীকে টাকা দিতে বলে। একই দিনে দুপুর সাড়ে ১২টার সময় বিকাশের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা পাঠায়। আবারও একই দিনে বিকেল ৪টায় বিকাশে আরো কিছু টাকা পাঠাতে বলে। এরপর ১৫ হাজার টাকা পাঠানো হয়। টাকা পাঠানোর পর বাদীর স্বামীর নাম্বারে কল করলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর নিহত হারুনের স্ত্রী থানা পুলিশের সহায়তায় টাকা প্রেরিত বিকাশ নম্বরের অবস্থান শনাক্ত করে ডেমরা থানা পুলিশকে জানায়। ওসি আরো বলেন, পরবর্তী সময়ে গত ২৫ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টায় ডেমরা থানা পুলিশের মাধ্যমে হারুনের স্ত্রী সংবাদ পেয়ে ডিএন্ডডি খালে পাওয়া মৃতদেহটি তার স্বামীর বলে শনাক্ত করেন। উক্ত ঘটনায় ডেমরা থানায় মামলাটি রুজু হওয়ার তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শরীয়তপুর জেলা ও ডেমরা থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ৩ জনকে গ্রেফতার করে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ১টি খয়েরী রংয়ের ট্রলি ব্যাগ, ১টি বালিশ, ১টি ষ্ট্যাম্প ও ১টি রশি উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৫ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টায় ডেমরা থানার বামৈল বাশেঁরপুল মধ্যবর্তী ডিএন্ডডি খালে একটি খয়েরী রংয়ের ট্রলি ব্যাগ পাওয়া যায়। ট্রলি ব্যাগের মধ্যে থেকে হারুনর রশিদ হাওলাদার (৪৫) মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ বিষয়ে ভিকটিমের স্ত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৬ নভেম্বর ডেমরা থানায় মামলা রুজু হয়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *