‘ঢাকাকে একটি নিরাপত্তা বলয়ে আনতে কাজ করছে ডিবি’

জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেছেন, ঢাকাকে একটি নিরাপত্তা বলয়ে আনতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ কাজ করছে।

তিনি বলেন, আমরা শুধু একাই কাজ করি না। আমাদের পাশাপাশি সিআইডি, পিবিআই, র‌্যাবও কাজ করছে। ছিনতাই বা কোনো অপরাধ করে পার পাবে তা আমরা হতে দেব না।

শনিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ঢাকাকে নিরাপদ ও ঢাকায় বসবাসরত মানুষকে নিরাপত্তা দেয়া। আমাদের কাজ হচ্ছে মানুষকে সেবা দেয়া। এই নিরাপদ রাখার জন্যই অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আপনারা জানেন সেবা পক্ষ নামে নাগরিক তথ্য সংগ্রহ চলছে। অনেক সময় দেখা যায় অপহরণ, ছিনতাই বা অন্য কোনো অপরাধ ঘটলে অপরাধীর বিষয়ে বাসা বাড়িতে গেলে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না।

সম্প্রতি একটি ঘটনার কথা বলি, কিছুদিন আগে রাজধানীর দক্ষিণখান থানায় একটি অপহরণকারী চক্র মানুষকে ধরে একটি বাসায় আটকে রাখতো। কিন্তু আমাদের হাতে গ্রেপ্তারের পর তাদের বিষয়ে সে ভাবে থানায় তথ্য ছিল না।

আমরা আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে অনুরোধ করবো প্রতিটি বাড়ির মালিক তার বাড়ি ভাড়া দেয়ার সময়ে ভাড়াটিয়ার তথ্য সংগ্রহ করে রাখবেন। আগের সমাজ ব্যবস্থা ছিল প্রতিটি এলাকার মানুষ সবাই সবাইকে চিনতেন। এখন সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এখন পাশের রুমের প্রতিবেশীকেও আমরা চিনি না।

আমরা অনুরোধ করবো প্রতিটি নাগরিক যেন তার তথ্য পার্শ্ববর্তী থানা বা এলাকার বিট অফিসে দেয়। তাহলে হয় তো ঢাকার অন্যান্য অপরাধগুলো কমিয়ে আনতে পারবো।

ধানমণ্ডিতে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় চার্জশিট দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। এ বিষয় তিনি বলেন, মামলাটি হলো একজন সামরিক কর্মকর্তাকে মারধর করা হয়েছে। এই ঘটনাটি যে ধারায় ঘটেছে আর যেহেতু মামলার সত্যতা মিলেছে বলেই আমরা ঘটনার সত্যতা উল্লেখ করে একটি চার্জশিট দিয়েছি। সরকারি কর্মকর্তাকে কয়জন মিলে মেরেছে। ওই ঘটনায় যা যা সত্য আমরা সে বিষয়টি তুলে ধরেছি। ৫ জনকে আসামি করে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। ইরফান সেলিম ৩ নম্বর আসামি।

গতকাল বিমানবন্দরে একজন হত্যাচেষ্টা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু কয়েক ঘন্টা পরেই তিনি জামিন পেয়েছেন এমনকি রিমান্ড আবেদন করা হয়নি। এই জামিন পাওয়ার পেছনে মামলায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, কোনো মামলায় রিমান্ড আবেদন করতে গেলে তার (আসামি) মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা প্রয়োজন। দেশে আসার পর জামিন পাওয়ার বিষয়ে যতটা তথ্য পেয়েছি তিনি কয়েকদিন আগে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন। আসামি প্রচণ্ড হাপাচ্ছিলেন। আমরা যখন একজনের রিমান্ড আবেদন করি তখন আদালত থেকে বলা হয়, তাকে যেন শারীরিক ও মানসিকভাবে হ্যারেজ না করা হয়। পাশাপাশি তার বাবা মারা যাওয়ার কারণে তিনি দেশে এসেছেন। তিনি অসুস্থ না থালে আমরা তাকে অবশ্যই রিমান্ডে আনতাম। আর জামিন দেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতেয়ার। এখানে আমাদের কিছুই করার নেই।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *