তদবিরে কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে সেবিকার চাকরি নয়, অনেকের কাছে যেন পৈত্রিক বাসাবাড়ি

সারাবাংলা

সালাহ উদ্দিন সুমন, নোয়াখালী থেকে:
নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সরকারি নিয়মনীতি ভঙ্গ করে বছরের পর বছর ধরে বদলি ছাড়াই নিজের পৈত্রিক বাসাবাড়ির ন্যায় বহাল তবিয়তে রয়েছেন উল্লেখযোগ্য সেবিকারা। দীর্ঘদিন ধরে এসব সেবিকা একই কর্মস্থলে চাকরি করার কারণে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় ভেঙে পড়ছে এ হাসপাতালের সার্বিক সরকারি চিকিৎসাসেবাও। অভিযোগ রয়েছে, এ হাসপাতালে সেবিকা পদে এক যুগ আগে সরকারি চাকরিতে যোগদান করার পর অন্য কোথাও আর যেতে হয়নি এমন সেবিকার সংখ্যাও কম নয়।
সূত্র জানায়, মধ্যে মধ্যে কিছু সেবিকা জেলার অন্য উপজেলা পর্যায়ের কোনো হাসপাতালে বদলি হলেও মাত্র কিছুদিন হাজিরা খাতায় সই স্বাক্ষর করে সেখান থেকে আবারও ফিরে আসেন পুরোনো কর্মস্থলে। এ যেন তাদের তদবিরে তকদির ফেরানোর কৌশলও। জানা যায়, এ হাসপাতালে এসব সেবিকা কোনো কাজ না করলেও কর্মক্ষেত্রে তাদের অসুবিধা হয় না। ইণ্টার্নিতে থাকা সেবিকাদের দ্বারাই তারা তাদের দৈনন্দিন কাজ সেরে নেন সহজে। সূত্র আরও জানায়, এসব সেবিকাকে বদলি করে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখার লক্ষ্যে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে বিভিন্ন সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে চিঠি চালাচালি হয়। তবে একপর্যায়ে তা আর আমলে নেয়নি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। জানা যায়, সরকারি স্বাস্থ্য অধিদফতরেও এক শ্রেণির ঘুষখোর কর্মকর্তারা এসব সেবিকা থেকে চুক্তি মতো আর্থিক সুবিধা হাতিয়ে তাদের আর বদলি করেননি। জানা যায়, সেবিকাদের দায়িত্ব পালন বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রয়েছে স্পষ্ট নির্দেশনাও। কিন্তু কোনটিই কাজে আসছে না এ হাসপাতালে। সেবিকাদের ওয়ার্ড ইনচার্জ পদে দায়িত্ব পালন সম্পর্কে ২০২০ সালে ২৬ জুন স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো ওযার্ড ইনচার্জের মেয়াদ দুই বছর পূর্ণ হলে আবশ্যিকভাবে তাকে এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। বলা রয়েছে, কোনো ওয়ার্ড ইনচার্জের মেয়াদ দুই বছর পূর্ণ হওয়ার ২ সপ্তাহ আগে তিনি লিখিতভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। তিনি জানানোর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সে মোতাবেক ব্যবস্থা না নিলে তিনি আপনাআপনি অব্যবহতিপ্রাপ্ত বলে গণ্য হবেন। নির্দেশনা মতে, এক ওয়ার্ডে দায়িত্ব পরিবর্তন করে অন্য ওয়ার্ডে দেওয়া যাবে না। ওয়ার্ড ইনচর্জের দায়িত্ব দেওয়ার সময় সিনিয়রটি কে অবশ্যই প্রাধান্য দিতে হবে এবং কোনোভাবেই জুনিয়রদের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। তা ছাড়া কর্মরত কোনো নার্স পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন না করা পর্যন্ত ইতোপূর্বে দায়িত্ব পালন করা কোনো নার্সকে ওয়ার্ড ইনচার্জের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। এ ছাড়া কারো বিরুদ্ধে বিভাগীয় বা ফৌজদারী মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। একই হাসপাতালে দুই মেয়াদের বেশি ওয়ার্ড ইনচার্জের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। কিন্তু নির্দেশনার প্রায়শর্তই পরিপূর্ণভাবে পালন করা হয় না এ হাসপাতালে।
জেলার সচেতন নাগরিকদের অনেকে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক পদের বদলি হলেও সেবিকাদের বদলি করা সহজ হয়ে ওঠে না এ জেলায়। তারা বলেন, সেবিকারা বিভিন্ন তদবিরবাজির কারণে তারা নিজ তবিয়তেই বহাল থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, এ হাসপাতালের অকে সেবিকা সরকারিভাবে রোগীদের জন্যে বরাদ্ধ থাকা ওষুধ পথ্যও বাইরে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
জেলার সদরের ইদ্রিস মিয়া জানান, তাদের কাছে ভর্তি থাকা কোনো রোগীর ওষুধ চাইতে গেলেই বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেন, বাইরে থেকে কিনে আনেন। এসব করে অনকে সেবিকা এই শহরেও বাড়ি গাড়ি অনেক সহায় সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব নিয়ে দায়িত্বশীল তত্বাবধায়ক সাহারিয়া সাহেলা জাহানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, কালকে (গতকাল মঙ্গলবার) অফিসে আসেন। আমাদের হাতে এক যুগ আগে এখানে যোগদান করে এখানেই সেবিকার চেয়ারে আছেন এমন একটি দীর্ঘ তালিকা রয়েছে। এর জন্যে তো আর অফিসে যেতে হয় না, এমন বাক্যের উচ্চারণে তিনি বলেন, ও হ্যাঁ, এটা আমরা দেখি না। এটা টোটালই দেখে তাদের নার্সিং অধিদফতর।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *